রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার প্রতিবাদে অবরোধ-বিক্ষোভ

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
অপরাধ
এখন জনপদে
0

রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ সপরিবারে চারজনকে হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে মুখর নগরী। সড়ক অবরোধ, মৌন মিছিল ও মানববন্ধনের পাশাপাশি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। এদিকে, আদালতের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সৎকার সম্পন্ন হয়েছে গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যের।

রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ সপরিবারে চারজনকে হত্যার ঘটনা এখন নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নির্লোভ, নির্মোহ ও পরোপকারী এই গুণী শিক্ষককে হারানোর বেদনা রূপ নিয়েছে ক্ষোভে। শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনাতেও প্রশ্ন তুলছেন গণপতি চক্রবর্তীর শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, দু’জনের হাতে চারজনের হত্যাকাণ্ড, অথচ প্রতিবেশীদের কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়া—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। এছাড়া আটক ব্যক্তিদের রিমান্ডে না নেয়া এবং হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রংপুর জিলা স্কুলের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে নগরীতে বের করা হয় মৌন মিছিল। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রংপুরের রাজপথ। একই দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনও। আন্দোলনকারীদের দাবি—হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে, গতকাল (রোববার, ২৩ আগস্ট) রাতে অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেয়ায় পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেনি। পরে আদালত আটক ব্যক্তিদের জেলহাজতে পাঠান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

রংপুর কোতোয়ালি থানা তদন্ত ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, ‘মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের উপস্থাপন করি। আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান আছে। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আসামিদের বিচারের জন্য আমরা তৎপর থাকবো।’

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র। শুধু ইয়াবা সেবন করতে দেখার কারণেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—বিষয়টি তাদের কাছে অনেকটাই অবিশ্বাস্য।

একই সন্দেহের কথা বলছেন গণপতি চক্রবর্তীর সহকর্মীসহ সচেতন মহলের প্রতিনিধিরাও। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তাদের সব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে এবং রংপুরবাসীদের সন্তুষ্ট করতে হবে। এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডকে রহস্যজনক হিসেবে তুলে ধরে, এর অনেক তথ্যই গোপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন কেউ কেউ।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকায় নিজ বাসায় সপরিবারে খুন হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে আয়ুষ ও মেয়ে আগমনী। পরে চারজনের মরদেহের সৎকার সম্পন্ন হয়।

ঘটনার পর থেকেই থমথমে পুরো রংপুর। স্বজন, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটাই দাবি—নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে নিশ্চিত করতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

এসএইচ