গ্রীষ্মের শেষ ভাগে রোপণ করা পাট বর্ষায় বেড়ে উঠেছে, শরতের শুরুতেই কাটা পড়ছে। এভাবে তিনটি ঋতুর ছোঁয়ায় কৃষকের ঘরে আসছে সোনালী আঁশ।
চাষাবাদ শেষে পরিপক্ব পাট কেটে সপ্তাহ দুয়েক গাজন প্রক্রিয়ায় রেখে পাটখড়ি ও আঁশ আলাদা করার ভরা মৌসুম চলছে। সার, কীটনাশকের দাম আর শ্রমিকের মজুরি দিয়ে পাট ঘরে তোলার প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেকটাই বাড়তি খরচ হয়েছে। তবে এ বছর ভাল ফলনের পাশাপাশি ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষক।
কৃষকরা জানান, পাটের ফলন গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। বাজারে দাম ভালো পাচ্ছে। তবে সার কীটনাশকের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার কথাও জানান কৃষকরা।
হাটবাজারে পাট উঠছে বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেক কম। হাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফার জন্য বাড়তি দামে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের। ভরা মৌসুমে দাম বাড়তি থাকায় পাট কিনতে খুব একটা আগ্রহ নেই মিল মালিকদের। তাই এ বছর পাট কেনাবেচায় লোকসানের শঙ্কা রয়েছে তাদের।
পাট ব্যবসায়ীরা জানান, পাট কিনে মিলে দেয়া হচ্ছে। মিলে পাটের দাম বাজারের তুলনায় অনেক কম।
বগুড়ার হাট বাজারগুলোতে এ বছর পাট বিক্রি হচ্ছে মণ ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা। কৃষক ভালো দাম পেলেও পাট ক্রয়ে আগ্রহ নেই মিল মালিকদের। এমন সংকট কাটাতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ এই কর্মকর্তার।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে পাটের জন্য ভালো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষ করে পাট দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করলে পাটের চাহিদা বাড়বে। স্কুল ব্যাগ থেকে শুরু করে বস্তা তৈরি করতে পাট ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’
জেলায় এ বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেব অনুযায়ী উৎপাদন ছাড়িয়েছে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন।





 production facilities-320x167.webp)