কোনো ছাউনি না থাকায় অপেক্ষারত যাত্রীদের রোদে পুড়তে আর বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। এছাড়াও নেই কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা। চাঁদপুর লঞ্চঘাটে চলাচলকারী যাত্রীদের এমন ভোগান্তি নিত্যদিনের।
চাঁদপুর থেকে রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই নৌপথ। নানা দুর্ভোগ ও হয়রানির কারণে ধীরে ধীরে যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ছে।
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এত মানুষ এখানে যাতায়াত করে পারাপার হয়, অথচ এখানে বসার মতো কোনো ব্যবস্থা নাই, সুযোগ-সুবিধা নাই।’
অন্য একজন বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত পইড়া রইছে। যাত্রীদের অনেক চরম দুর্ভোগ চলতেছে।’
আরও পড়ুন:
নারী যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা যদি ওয়াশরুমে যেতে চাই, তাহলে সেটাতেও আমাদের সমস্যা হচ্ছে। বাচ্চা এবং নারীদের জন্য কোনো বসার কোনো যাত্রী ছাউনি নাই এবং ওয়াশরুমও নেই।’
২০২৩ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রায় ১০০ কোটি টাকায় শুরু হয় নৌবন্দর নির্মাণের কাজ। ২.২১ একর জায়গায় তিনটি চারতলা ভবন, পন্টুন, গ্যাংওয়ে, পার্কিং ইয়ার্ড, এক্সটার্নাল ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ২৪ মাসের প্রকল্পে ১৬ মাসে কাজ হয় মাত্র ২৫ শতাংশ।
লঞ্চ মালিক প্রতিনিধিরা বলছেন, একসময় এই রুটে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী চলাচল করতেন। এখন লঞ্চঘাটের দুর্ভোগ আর সড়কপথের উন্নতিতে যাত্রী কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। তাই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নৌ টার্মিনাল নির্মাণ না হলে লঞ্চ সার্ভিস টিকিয়ে রাখাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন:
লঞ্চ মালিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখন তো অনেক লঞ্চই চলে না। অনেক লঞ্চে যাত্রী বলতে কিছু নাই। প্রত্যেকটা লঞ্চই লস হয়।’
চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে চলাচল করে অর্ধশতাধিক লঞ্চ। চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষ যাতায়াত করেন এই বন্দর দিয়ে। আধুনিক নৌবন্দরের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্নের আশা কর্তৃপক্ষের।
চাঁদপুর জেলা বন্দর কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সড়কপথের উন্নয়নের কারণে নৌপথে এখন আমাদের যাত্রী কমে গেছে। আমাদের হয়তো ১০ বছর অথবা ৫ বছর আগে যে যাত্রী ছিল, সেটা কমে যাচ্ছে।’
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আগামী মাসে কাজ শুরু হবে। আগামী মাসে যদি কাজ শুরু হয়, তারপরে এটার টেন্টিটিভ সময় আছে দুই বছর। তার মধ্যে ইনশা আল্লাহ কাজ শেষ হবে।’
কাঙ্ক্ষিত আধুনিক নৌ টার্মিনাল নির্মিত হলে বদলাবে যাত্রীসেবার চিত্র, এমনটাই প্রত্যাশা লঞ্চ মালিক ও জেলাবাসীর।




