বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে চলছিল অসন্তোষের পারদ। ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা এবং ইংল্যান্ড, ইতালি, আয়ারল্যান্ডের মতো দেশের পর এবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও পরিষ্কার জানিয়ে দিল-জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর তাদের অনাস্থার কথা।
ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবল যেভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি, বর্তমানে তা সেভাবে চলছে না। আর ঠিক এ কারণেই সর্বসম্মতিক্রমে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রার্থিতা থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আরও পড়ুন:
প্রাথমিকভাবে জুনে যখন ইনফান্তিনো একাই একমাত্র প্রার্থী ছিলেন, ফ্রান্সের সমর্থন ছিল তার দিকেই। তবে পরবর্তীতে ফিফার দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিকীকরণ চেষ্টার বিষয় সামনে আসায়, অবস্থান পরিবর্তন করে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। ফিফার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং গত এক দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে দাপট দেখানো অন্যতম সফল দল হিসেবে এই বিষয়ে চুপ থাকতে রাজি নয় তারা।
ফিলিপ দিয়ালো বলেন, ‘মনে রাখা প্রয়োজন, ফিফার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফ্রান্স। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, ফিফা ও এর সভাপতি যখন আমাদের দূরদর্শিতার পথ থেকে বিচ্যুত হন, তখন হস্তক্ষেপ করার ঐতিহাসিক বৈধতা আমাদের রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও আমাদের সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে, কারণ গত দশ বছর ধরে ফ্রান্স বিশ্বের সেরা তিনটি ফুটবল দেশের অন্যতম।’
২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের ১৮ নভেম্বর। যদিও এখনো পর্যন্ত ইনফান্তিনো একাই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন, তবে উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং কনকাকাফ জোট বেঁধে বিকল্প প্রার্থীর জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সার্বিক এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ এর নির্বাচন যে ইনফান্তিনোর জন্য মসৃণ হচ্ছে না, তা বলাই যায়।





