গত এক সপ্তাহ ধরে কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এতে আতঙ্ক বেড়েছে পানিবন্দি দুই ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষ মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও নতুন করে বেড়েছে ৬ সেন্টিমিটার পানি। বর্তমানে পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরের চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখন পানিবন্দি। এতে মানুষের পাশাপাশি দুর্ভোগ বেড়েছে গবাদি পশুরও। পানিবন্দির কারণে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে দুই ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের অন্তত ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দুর্গত এলাকাগুলোতে চরম আকার নিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। তলিয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা ও ৪৭০ হেক্টর চরের ফসলি জমিও।
স্থানীয়রা জানান, আমরা খুব দুর্যোগের মধ্যে আছি বর্ষার কারণে। কারণ বাড়ি থেকে নামলেই পানি। কোনো জায়গায় নড়তে পারি না। বাচ্চাদের ঠাণ্ডা, জ্বর। যোগাযোগ ব্যবস্থাটা সবচাইতে বড় সমস্যা। আমরা কোনো সাহায্য-সহায়তা পাইনি, কেউ আসেনি, আমাদের কোনো কেউ দেখাশোনাও করে নি। কেউ আসেনি। আমরা এইভাবেই কষ্টে আছি, মনে হয় যেন অন্তত ১৫ দিন পর্যন্ত আমরা এইভাবেই কষ্ট করছি।
দুর্ভোগ বাড়লেও দুর্গত পানিবন্দি এলাকাগুলোতে এখনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী মানুষ।
তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পানিবন্দি মানুষের পাশে রয়েছেন তারা। দেয়া হচ্ছে ত্রাণ-সহায়তাও।
কুষ্টিয়া দৌলতপুরের নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, আমরা অলরেডি ৭০ টা পরিবারে ৩৫০ জনকে শুকনা খাবার দিয়েছি চাল, ডাল, তেল, চিনি সহ হচ্ছে চিড়া, মুড়ি সবকিছু সহ এগুলি দেয়া হয়েছে ৭০ টা পরিবারকে এবং কালকে থেকে আমাদের ১৬ মেট্রিক টন চাল, আমরা ১৬০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দিব এবং ২৫০ শুকনা খাবারের প্যাকেট ২৫০ পরিবারকে।
কুষ্টিয়া-১-এর সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বর্ষা নেমে গেলে তো একটা নিরূপণ নিরূপণ করবে সরকারিভাবে। তখন সরকারিভাবে আবার চেষ্টা করব তাদের ক্ষতি পূরণের। তিনটা গ্রাম- কোলদিয়ার, ভুরকা, হাটখোলা পাড়া। আর চিলমারী ইউনিয়নে একটি গ্রামে ২০ টা বাড়ি অলরেডি ভেঙে গেছে। গতকাল মন্ত্রী মহোদয় আমাকে কথা দিছেন যে আগামী অর্থবছরে এই দুইটা জায়গায় উনি বাঁধ নির্মাণ করে দেবে।
এদিকে কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। যে কোনো সময় বাড়তে পারে পানি। আর পানি বাড়লে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এলাকার মানুষদের।





