এক শিক্ষকেই চলছে শরীয়তপুরের নার্সিং কলেজ

ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা
শিক্ষা
এখন জনপদে
1

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউশনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন ১৮টি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে মাত্র ৬টি। কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রমও। ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার রুম ও লাইব্রেরির অবকাঠামো থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বই। ফলে মানসম্মত নার্সিং শিক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

দৃষ্টিনন্দন ভবন, বড় বড় শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার রুম আর নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল রয়েছে। কিন্তু এর আড়ালেই রয়েছে চরম শিক্ষক ও জনবল সংকট। শরীয়তপুরের নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউশনে বর্তমানে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে কার্যক্রম।

শরীয়তপুর আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর অসীমা রানী দাস সরকার বলেন, ‘আমরা যা সামলাচ্ছি, এটা সামলানো বলে না। জাস্ট আই ওয়াশের মতো একটা দেয়া হচ্ছে। কারণ একজন টিচারের দ্বারা বা দুইজন টিচারের দ্বারা ২২ টা সাবজেক্ট কাভার করা খুবই টাফ। সেটা শুধু সাবজেক্টের নাম বলা ছাড়া এর চাইতে বেশি কিছু পড়ানো আসলে সম্ভব না।’

প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে শুধু ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ৪টি বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ২২টি বিষয়ের বিপরীতে প্রতিদিন হওয়ার কথা ১৮টি ক্লাস। কিন্তু শিক্ষক সংকটে হচ্ছে মাত্র ৬টি ক্লাস। একজন শিক্ষককে সামলাতে হচ্ছে একাধিক বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে সিলেবাস শেষ করা, ক্লাস নেওয়া এবং ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ- সবই পড়েছে অনিশ্চয়তায়, বিপাকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘আমাদের নার্সিং পড়া শুধু একটা কোনো সিস্টেম দিয়ে নয়। আমাদের বিস্তারিত পড়া দরকার। কিন্তু এখানে কোনো পরিমাণ মানে কোনো প্রয়োজনীয় ইনস্ট্রুমেন্টস নেই। দুইজন টিচারের যতই চেষ্টা করুক না কেন, আমাদের সম্পূর্ণটা কভার করা তাদের পক্ষে কোনোদিনও পসিবল না। আমরা এই যে সেকেন্ড ইয়ারে এখন আছি আর দেড়-দুই মাস মতো আছে আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু আমাদের দুইটা সাবজেক্ট একদমই টোটালি কোনো ক্লাসই হয়নি।’

আরও পড়ুন

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণেরও ঘাটতি রয়েছে। ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার রুম থাকলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। নেই প্রয়োজনীয় বই ও রেফারেন্স সামগ্রী। ফলে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থেকেও পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্য আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের হাতে-কলমে শেখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ল্যাব দরকার। এখানে আমাদের শুধু ফান্ডামেন্টাল আর অ্যানাটমি ল্যাব ছাড়া আর কোনো ল্যাব নাই। মাত্র তিনটি কম্পিউটার থাকায় আমরা শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগই পাচ্ছি না যে আমরা হাতে-কলমে স্লাইড প্রেজেন্টেশন করব। লাইব্রেরি না থাকার কারণে, লাইব্রেরিতে বই না থাকার কারণে আমরা সেটা পাচ্ছি না।’

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল থাকলেও পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে ঝোপঝাড়। কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে ব্যাহত কার্যক্রমও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।

আরও পড়ুন

শিক্ষক সংকটসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন একজনের জন্য কতটা চাপ তা স্পষ্ট অধ্যক্ষের বক্তব্যে।

আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউশনের প্রিন্সিপাল জাহিদ হাসান বলেন, ‘জনবল না থাকায় অফিস পরিচালনা করা এবং সিকিউরিটি যেটা মেইনটেইন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মেয়েরা আনসিকিউর অবস্থায় ফিল করতেছে। অর্থনৈতিক না থাকার কারণে কলেজের বিভিন্ন কাজকর্ম আমরা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছি না।’

২০২৩ সালে ৫ একর জমির ওপর ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় নির্মাণ করা হয় আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট।

এফএস