শোকের মাঝেই প্রিয়জনের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষা

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড
এখন জনপদে
2

ফিরে আসবেন না আর প্রিয়জন। নিয়তির এই নিষ্ঠুরতা মেনে নিতে হচ্ছে। কিন্তু মরদেহ বুঝে পাবার এই অপেক্ষা যেন আরো কঠিন। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক, অন্যদিকে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্ত করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার।

যে কক্সবাজারে এসেছিলেন আনন্দ আর স্বস্তির খোঁজে, সেই কক্সবাজারেই এখন ১০জন নিথর দেহ পড়ে আছে হাসপাতালের মর্গে।

স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিবেশ। কেউ খুঁজছেন স্ত্রীকে, কেউ বোনকে, কেউবা প্রিয় বন্ধুকে। কিন্তু মরদেহগুলো এতটাই দগ্ধ যে, বারবার দেখেও প্রিয় মানুষটিকে চিনতে পারবেন কি না, সেই নিশ্চয়তাটুকুও নেই তাঁদের।অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না কারও।

মৃতদের একজন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শোক নিয়ে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো তাকে দেখার। একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, অন্যদিকে তার মরদেহটিও নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে না পারার অসহায়ত্ব।

নাসরিন আক্তার মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল বলেন, ‘এই টুকটুক রিসোর্ট প্রথম দিকেই চলত একটা রেস্টুরেন্ট হিসেবে। এই রেস্টুরেন্টের ওপরে ওনারা কাজ করেছে। অথরিটি রিসেন্টলি তাদেরকে সতর্ক করেছিল, কিন্তু তারা এগুলা কর্ণপাত করে নাই।’

আরও পড়ুন:

শুধু ফয়সাল নন, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজে হাসপাতালের মর্গে আসছেন আরও অনেকে।

নিহত এক ব্যক্তির স্বজন বলেন, ‘বের হওয়ার যদি পথ থাকত, তাহলে হয়তো এতগুলা প্রাণ ঝরত না আরকি। বের হওয়ার সুযোগ একটা থাকত।’

এদিকে, মরদেহের নমুনার সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের নমুনা মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুবক্তাগীন মাহমুদ সোহেল।

তিনি বলেন, ‘সেই ডেডবডিগুলোর থেকে ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করে আমরা সেটা ডিএনএ ল্যাবে পাঠাব ঢাকায়, সিআইডির মাধ্যমে। সেটা ঢাকায় যাবে, সেখানে স্যাম্পলিং হবে। এছাড়া আমাদের ওই ডেডবডিগুলোর যে রিলেটিভস, ফার্স্ট ডিগ্রি রিলেটিভ আমরা বলি—বাবা, মা, ভাই, বোন বা সন্তান—এরকম কারও ডিএনএ স্যাম্পল তারা ওখানে ঢাকায় ল্যাবের মধ্যে দিবে। এই দুই স্যাম্পল যখন মিল হবে, তখন সে অনুযায়ী এই ডেডবডিগুলো হস্তান্তর করা হবে।’

এদিকে, ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা করেছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘মামলা হয়েছে। আসামি ২৩ জন। ৪ জন হচ্ছে জ্ঞাত, নাম-ঠিকানা আছে এদের। আর ১৯ জনের নাম-ঠিকানা নাই, অজ্ঞাত।’

আগুনের ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ আছে কিনা সে ব্যাপারে প্রশাসনের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

এফএস