আমাদের মন খারাপ করার অধিকারও নেই: যশোরে হাসনাত আবদুল্লাহ

হাসনাত আবদুল্লাহ
এখন জনপদে
1

‘আমাদের মন খারাপ করার অধিকারও নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলেও পুলিশ দিয়ে মানুষকে বাসা থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে। আজ (শনিবার, ৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিরোধীদলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিরোধীদলকে বিকল্প সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই তাদের সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে হবে।’ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পরে ফল মেনে নেয়ার মতো অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, কারচুপি হলে তা স্পষ্টভাবে বলতে হবে; একবার অভিযোগ তুলে পরে আপস করা বিরোধীদলের কাজ হতে পারে না।

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রিয় বিএনপি সরকার, আপনারা যদি ক্রসফায়ার দেয়া শুরু করেন, তাহলে আপনাদের দলের একটা লোককেও খুঁজে পাবেন না। কারণ, ক্রসফায়ার দিতে হলে চাঁদাবাজদের দিতে হবে, টেন্ডারবাজদের দিতে হবে। যারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা নেয়, যারা চাকরির কথা বলে ঘুষ নেয়, তাদের ক্রসফায়ার দিতে হবে। আর পুলিশ যখন এই ক্রসফায়ার দেবে, তখন আপনাদের নিজ দলের ব্যক্তিদেরই দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করেন না—এটি যেমন সত্য, তেমনি যারা চাঁদাবাজি করেন, তারা প্রত্যেকেই বিএনপির সঙ্গে যুক্ত।’

দেশে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজ এমন এক পরিস্থিতিতে আপনাদের সামনে কথা বলতে এসেছি, আমরা দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। যেখানে আমাদের মন খারাপ করার অধিকার নেই, যেখানে আমরা নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বলি, নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা দেখতে পাই বিএনপি সরকার পুলিশ দিয়ে বাসা থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।’

ময়মনসিংহে সাথী আক্তার নামে এক নারীকে পুলিশ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হাসনাতের দাবি, ওই নারী ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপিকে ভোট দেয়া ভুল হয়েছে বলে মন্তব্য করার পর তাকে আটক করা হয়। প্রতিবাদ করলে আইজিপি ক্রসফায়ারের ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পথসভায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলীয়করণ, কর্মসংস্থান সংকট এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেও তরুণদের চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই।’

জাপান ও মালয়েশিয়া সফর শেষে সরকার বিদেশে কর্মসংস্থান নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার অভিযোগ, জাপানে এক লাখ এবং মালয়েশিয়ায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরে এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ ভাত চায়, কর্মসংস্থান চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায়। বিএনপি সরকার, আমাদের বাঁচতে দিন, আমাদের কর্মসংস্থান দিন। না হলে দেশের জনতা আবার রাস্তায় নেমে আসবে।’

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগও তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।’ অথচ ব্যাংকগুলোকে ঋণখেলাপির প্রভাব থেকে বের করে আনতে সরকারের কার্যকর পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান এসে বলেছিলেন, “হি হ্যাজ এ প্ল্যান”। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, তার এমন পরিকল্পনা, যেখানে নেতার হাতে কর্মীকে খুন হতে হয়। এমপির ছেলের হাতে কর্মীকে খুন হতে হয়। নিজের দলের হাতে নিজের দলের নেতাকর্মীদের খুন হতে হয়। এই ধরনের মাস্টারপ্ল্যান আমরা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম দেশ গড়ার পরিকল্পনা।’

তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে তরুণেরা পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন। তারা শুধু আন্দোলনে অংশ নিতে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়তেও ভূমিকা রাখতে চান।’ তাই রাজনীতিতে বিরোধিতার অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি আপসের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এএম