২০১৮ সালের মার্চে ৭ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয় ৫০০ আসনবিশিষ্ট বরগুনা টাউন হলের নির্মাণ কাজ। ২০২০ সালে কাজ শেষের কথা থাকলেও, ঠিকাদারের দাবি, উন্নয়ন তহবিলের টাকা অন্য খাতে সরিয়ে নেয়ায় বন্ধ হয়ে যায় প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হওয়া কাজ। ফলে অরক্ষিত এই ভবনের বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে, পরিণত হয়েছে মাদকের আড্ডায়।
অন্যদিকে, বরগুনা সদর ইউনিয়নের হেউলি বুনিয়া এলাকায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি ও সরকারের অর্থায়নে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বর্জ্য শোধনাগারটি উদ্বোধনের পরও বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। বর্জ্য থেকে জৈব সার পাওয়ার কথা থাকলেও এখন বর্জ্যের বিষাক্ত পদার্থে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন কাজ করার পর তা ফেলে রাখা হয়েছি। আর ময়লা রিফাইং করে সার হবে। তারও কোনো খবর নাই।
একই অবস্থা ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের দুটি উচ্চ জলাধারের। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও আনুষঙ্গিক কাজের বরাদ্দ না থাকায় এখন পর্যন্ত এক ফোঁটা পানিও পাননি পৌরবাসী।
কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। দ্রুত অসমাপ্ত কাজ শেষ করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি সচেতন মহলের।
সমাজকর্মী মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘জৈব সারের পরিবর্তে সেখানে বিষাক্ত বর্জ্য থেকে যে পদার্থগুলো বের হচ্ছে, সেগুলো ফসলের জমিতে মিশে যাচ্ছে এবং ফসলের জমিতে গিয়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে।’
সাংস্কৃতিক কর্মী চিত্তরঞ্জন শীল বলেন, আমরা মনে করি যে মিলনতায়নটা কে সুন্দরভাবে আবার নির্মাণ করা হোক। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ যে সেই মিলনতায়নটা যদি আবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় তাহলে সাংস্কৃতিক কর্মীরা, নাট্যকর্মীরা সেখানে আবার সেই মিলনতায়নটা পরিপূর্ণ করতে পারবে।’
এদিকে টাউন হল নির্মাণে বরাদ্দের অর্থ বেআইনিভাবে সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ ঠিকাদারের। আর পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, কাজ শেষ করলেই দেয়া হবে অর্থ ছাড়। এছাড়া বাকি দুটি প্রকল্পের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার আশ্বাস দিয়েছেন পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী।
ঠিকাদার মো. আবুল হোসেন খান বলেন, ‘ফান্ডের নিশ্চয়তা হলে আমরা কাজ করতে রাজি আছি। এর আগেও বলছি, ফান্ডের কোনো নিশ্চয়তা নাই। ঢাকা থেকে ফান্ডের যে টাকা দেয়ার সব দিয়ে দিয়েছে। ফান্ড থেকে তারা টাকা নিয়ে নিয়েছে পৌরসভা।’
বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে মানে একটা চিঠি লিখেছি যে এ ব্যাপারে আমরা চেয়েছি যে এটাকে টাইম এক্সটেনশন করার জন্য। ট্যাংকের ব্যাপারে হলো যে আমরা ট্রান্সমিশন লাইনের জন্য এবং মিটারের জন্য আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের কাছে আমরা লিখেছি, চিঠি লিখেছি। তারা একটা প্রজেক্টের মাধ্যমে এটার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে।’
বিপুল অর্থ ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও বাস্তবায়নের সঠিক তদারকি ও সমন্বয়ের অভাবে বরগুনার তিনটি বড় প্রকল্প আজ অকার্যকর। সরকারি কোষাগারের অর্থ যাতে এভাবে পড়ে থেকে নষ্ট না হয়, সেজন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি বরগুনাবাসীর।




