গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করায় আন্দোলনকারীদের হামলায় তৌফিকের মৃত্যু হয়েছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইনও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বাংলাবাজার বাহাদুরপুর এলাকায় অবস্থিত নোমান টেরি টাওয়াল কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে একদল লোক কারখানাটির সামনে ভাঙচুরের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয় বলে জানা গেছে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও সচেতন নাগরিকেরা কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ সময় নোমান টেরি টাওয়াল কারখানার সামনে নিজের মোবাইল ফোনে সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করছিলেন তৌফিক। ভিডিও ধারণ করতে দেখে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা লাঠিসোঁটা ও ইট দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান তিনি। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের গরীব-ই-নেওয়াজ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত শিন শিন জাপান হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
তবে তৌফিকের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে কিছুটা অসংগতি পাওয়া গেছে। হাসপাতালের ওয়েবসাইটে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করা ব্যক্তি জানান, তৌফিক নামে একজন তাদের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। তবে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না। একই সঙ্গে হাসপাতালটিতে তার মৃত্যু হয়নি বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
অন্যদিকে, জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ‘তৌফিক যে তারিখে আহত হয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, সেদিন তার থানা এলাকায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি। গত ১ নভেম্বর বাংলাবাজার এলাকায় গোলযোগ হয়েছিল। তবে ২ নভেম্বর এমন কোনো ঘটনা তার থানা এলাকায় ঘটেনি।
এদিকে, ঘটনার পর স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে তৌফিকের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই গাড়িযোগে তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যান।
নিহত মো. তৌফিক হোসেন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণ শোলাগাড়ি (ছয়ঘরিয়া) গ্রামের মৃত তবিবর রহমান ও তাহমিনা বেগমের ছেলে। তার স্ত্রীর নাম মোছা. সেতু।
তৌফিক গাজীপুর মহানগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদুরপুর এলাকায় খোরশেদ আলমের বাসায় ভাড়া থাকতেন। একই এলাকার লায়লা স্টাইল লিমিটেড (লায়লা টেক্সটাইল) কারখানার কাটিং বিভাগে বান্ডেলম্যান হিসেবে কাজ করতেন তিনি।





