দীর্ঘ ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে নেমেছিলেন পাথরঘাটার জেলেরা। তবে বারবার জাল ফেললেও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। ইলিশ না পেয়ে উপকূলের হাজারও জেলের চোখে মুখে কেবলই হতাশা।
এদিকে বাজারে ডিজেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। তার ওপর যোগ হয়েছে জলদস্যুদের আতঙ্ক। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ না পেলে কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন সেই দুশ্চিন্তায় উপকূলের এসব মৎস্যজীবীরা।
জেলেদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা ভাই এই ৬৫ দিন অবরোধে সরকারের কোনো সহযোগিতা পাইনি এবং আমরা অনেক ধারদেনার ভেতরে আছি। যদি আল্লাহ দুগা মাছ পোনা দেয়, এই ধারদেনা শোধ করতে পারমু।’
অন্য একজন বলেন, ‘জলদস্যু বাড়ছে ধরেন, এর আগের থেকে কম ছিল। মাঝখানে তো ছিলই না, এখন তো আবার হেই ভয়াবহ আগের মতন।’
আরও পড়ুন:
জেলেদের এই সংকটে যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বরফ উৎপাদন। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন বরফ কল মালিকরা। সময়মতো বরফ না পেয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ট্রলার মালিকরাও।
একজন বরফ কল মালিক বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা বরফ বিক্রি করতে পারি নাই। একদিন যদি বরফ নামাই, তিনদিনে আমরা বরফ বিক্রি করতে পারি নাই।’
অন্য একজন বলেন, ‘যে লোডশেডিং দেয়, তাতে হইলে এই বাণিজ্য আসলে করাও সম্ভব না।’
এদিকে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকার কথা স্বীকার করে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা জানান, অন্য উপজেলা থেকে সরবরাহ আনায় ওভারলোডিংয়ে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
বরগুনা পাথরঘাটা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আরিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে কিন্তু কোনো লোডশেডিং নেই। কিন্তু আমাদের এই ৩৩ কেবির একটা ফিডার আছে, ওটা হচ্ছে ভান্ডারিয়া থেকে চলে। ওইটা হচ্ছে ওভারলোড হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে এই লোডশেডিংটা করা লাগতেছে। আমরা মানে ২৮ মেগাওয়াট নিতে পারি, এর ওপরে যদি যায় তাইলে আমাদের ওইটা গ্রিড থেকে অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়।’
আরও পড়ুন:
সরকারি তথ্য বলছে, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ইলিশের উৎপাদন কমেছে ১২. ৪৯ শতাংশ। পরিমাণের হিসাবে যা ৭১ হাজার টনেরও বেশি। সাগরে মাছ কমে যাওয়ার পেছনে প্রশাসনের তদারকির অভাবকে দায়ি করছেন জেলেরা।
তাদের অভিযোগ, অবৈধ খুঁটা জাল আর ট্রলিং জাহাজের অবাধে মাছ শিকারের কারণে ইলিশসহ হাজারও প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সব অবৈধ তৎপরতাও বন্ধ করতে হবে।
জেলেদের মধ্যে একজন বলেন, ‘চিটাগাং যে হাজার হাজার ট্রলিং নামে, আমরা এই ক্ষুদ্র জাল ভাই চিকন জাল। আমাগো সম্পূর্ণ জালগুলা বাঁধাইয়া, কাইট্টা-কুইট্টা লইয়া হেরা চইল্লা যায়।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এই অবৈধ জাল এগুলো বন্ধ করতে হবে। অবৈধ বন্ধ না করলে এই মাছ কোনোদিনই আর বাড়বে না। এত পরিমাণে জাল, অবৈধ জাল যে কল্পনা করা যায় না।’
উপকূলীয় এই অঞ্চলের অর্থনীতি সচল রাখতে জলদস্যু নির্মূলসহ অবৈধ জাল উচ্ছেদ ও ট্রলিং জাহাজ বন্ধ এবং দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি পাথরঘাটার মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টদের।





