চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিচে নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, বিপাকে কৃষকরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
পানি সঙ্কটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের  কৃষকরা
কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
এখন জনপদে
0

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভয়াবহভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে বিশুদ্ধ পানিসহ ফসল উৎপাদনে চরম অনিশ্চয়তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েলে পানি না থাকায় খাবার পানি সংগ্রহে প্রতিদিন অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পানির সংকট কাটাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার দাবি বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে, পানি সংকট মোকাবিলায় ধান চাষ সীমিত করে রবিশস্য আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। দিন দিন সেচের জন্য কমছে পানির প্রাপ্যতা। এতে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ।

কৃষি সেচ, শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পানির চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামনে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। কৃষকরা বলছেন, আগে অল্প গভীরতাতেই পানির স্তর পাওয়া গেলেও এখন অনেক বেশি গভীরে নলকূপ বসিয়েও পর্যাপ্ত পানি মিলছে না। এতে সেচ ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে।

কৃষকরা জানান, পানি সংকটের কারণে ধান চাষে সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া আগের মতো ফসল ও আবাদ করা যায় না।

আরও পড়ুন:

টিউবওয়েলে পানি না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। পানি সংগ্রহ করতে দূরবর্তী গভীর নলকূপে যেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ধানের পরিবর্তে রবিশস্য আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের বলেছি যেসব ফসলে অল্প পানির প্রয়োজন সেসব ফসল আবাদ করার জন্য।’

বিএমডিএ বলছে, সংকট নিরসনে নদী ও খাল খনন প্রকল্পসহ নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি যেন নিচে নেমে না যায় তার জন্য আমরা নদীর পানি খাল খনন করে সেখানে পানি সংরক্ষণ করে কৃষকদের সেখান থেকে পানি সেচ দিচ্ছি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র এলাকায় প্রতিবছর বৃষ্টির মাধ্যমে ভূগর্ভে পানি জমা হয় প্রায় ৯০০ মিলিমিটার, কিন্তু ফসল চাষে পানি প্রয়োজন ১৩০০ মিলিমিটার।

জেআর