পানিতে ভাসছে হাওরের ধান; ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় নেত্রকোণার কৃষকরা

হাওরের পানিতে পাকা ধান
কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
এখন জনপদে
0

নেত্রকোণায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত দশ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। পানিতে নেমে ধান সংগ্রহের চেষ্টা করছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ধান সংগ্রহ। স্থানীয়রা বলছেন, দেনা পরিশোধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ কমবে।

আগাম বৃষ্টি ও বানের পানিতে ডুবেছে হাওর, সেইসাথে ডুবেছে ধান। বৈশাখে যেখানে কৃষকদের হাসিমুখে ফসল ঘরে তোলার কথা, সেখানে হাওড়জুড়ে হাহাকার আর শেষ সম্বল বাঁচানোর চেষ্টা।

কৃষক নাজিমুদ্দিন পূর্বের হাওরে ২৮ শতক জমিতে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ধান আবাদ করেছিলেন। ঘরে তোলার আগেই ডুবে গেছে তার সমস্ত ফসল। শ্রমিক সংকটের কারণে পরিবার নিয়ে নিজেই ধান বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কৃষক নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ করছি। এখন পানি এসে সব তলিয়ে গেছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

হাওরপারের সব কৃষকের গল্পই এখন নাজিমুদ্দিনের মতো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তলিয়ে গেছে সবার পাকা ধানের ক্ষেত। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়া শঙ্কা ভর করেছে তাদের। পানিতে সব তলিয়ে যাচ্ছে। আর ধান কাটার জন্য লোকও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।


ধান নিয়ে নৌকা করে ফিরছেন কৃষক |ছবি: এখন টিভি


চলতি বছর নেত্রকোনার ৬ উপজেলায় ৪১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, ৬৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হলেও মাঠেই রয়ে গেছে এর বড় অংশ। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি।

কৃষকরা জানান, বর্তমানে পানিবন্দি মাঠে দ্বিগুণ খরচে ধান কাটতে হচ্ছে। তবুও শ্রমিক মিলছে না পর্যাপ্ত। একজন কৃষক বলেন, ‘একেতো পানিতে সব ডুবে গিয়েছে, তার ওপর লোকও পাওয়া যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম পাহাড়ি ঢলে ডুবেছে হাওরের অন্তত দশ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান। তবে ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কাটার নির্দেশনা আগেই দেয়া হয়। নতুন করে বৃষ্টি না হলে ক্ষতি কিছুটা পোষানো যাবে।

নেত্রকোণা মদন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মিজান বলেন, ‘বর্তমানের মতো যদি আবহাওয়া থাকে তাহলে আরও কিছু দিন তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা পুষিয়ে আনা যাবে। ৫৪০ হেক্টোর জমি ঝুঁকিতে আছে। আমরা চেষ্টা করছি ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য।’

এ বছর নেত্রকোনায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ অন্তত শত কোটি টাকা।

জেআর