আজ (শুক্রবার, ১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ওই তিন জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে আইরিন আক্তার বিনা স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা মিলে তল্লাশি চালাতে থাকেন। পরে নিখোঁজের ৬ দিন পর গতকাল সকালে স্থানীয় দুই ব্যক্তি একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজ নিলে একটি পঁচা-গলা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ আইরিনের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলটি ছিল বাখুন্ডা এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইনের ঢালে অবস্থিত একটি কলাবাগান।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে হত্যা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে, কিন্তু শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেয়ার হুমকি দিলে আতঙ্কিত হয়ে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করে।
আরও পড়ুন:
হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সে তার মরদেহ পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। কয়েকদিন পর ওই বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম টয়লেটে সমস্যা বুঝতে পেরে বিষয়টি তার ছেলেদের জানান। পরে ট্যাংক খুলে তারা ভিতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে মরদেহটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মিলে মরদেহটিকে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দূরের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে আসেন, যাতে কেউ সহজে শনাক্ত করতে না পারে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ভিকটিমের পরিহিত কাপড়, স্যান্ডেল, মরদেহ বহনের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাই। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।





