সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

সাতক্ষীরা
ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়
এখন জনপদে
অপরাধ
0

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীদারি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের পর গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল (শনিবার, ১৬ মে) গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীদারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম তাসলিমা খাতুন (৩৬)। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং দুই সন্তানের জননী ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন মোড়ল পলাতক রয়েছেন।

নিহত তাসলিমা দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামান ও ফাতেমা খাতুন দম্পতির মেয়ে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেনাপোল এলাকার লোকমান হোসেন মোড়লের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীদারি গ্রামে তার প্রয়াত নানা মোহাম্মদ গাজীর বাড়িতে সপরিবার বসবাস করছিলেন। তাদের ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ৮ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

লক্ষ্মীদারি গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সন্তোষ কুমার ঘোষ জানান, সাদ্দাম বর্তমানে বেকার। কিছুদিন আগে অভাবের কারণে তাসলিমা তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসেন। সাদ্দাম সেটি চুরি করে বিক্রি করে দিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিবাদ শুরু হয়।

আরও পড়ুন:

তিনি জানান, গতকাল রাতে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সাদ্দাম হাতুড়ি দিয়ে তাসলিমার মাথায় আঘাত করেন। এতে তাসলিমা জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলে সাদ্দাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, ৯৯৯ থেকে তথ্য পেয়ে আমি নিজেই রাতে ঘটনাস্থলে যাই। গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এসএইচ