পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে বরগুনা থানা পুলিশ ও বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবির) সদস্যরা।
নিহত নারী হলেন— বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানী (৩৪)। তিনি জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে পার্টটাইম (খণ্ডকালীন) ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত অন্যান্যা হলো, বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (৩)।
ডাক বাংলোর কেয়ারটেকার লিটন বলেন, ‘আমি দুপুর দুইটার দিকে ডাকবাংলোয় আসি। এসে ভাত খেয়ে ওপরে উঠে দেখতে পাই, পাশাপাশি দুইটি কক্ষের একটি কক্ষের দরজা খোলা। একটু সামনে গিয়ে দেখি বড় মেয়ে অচেতন অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছে। অপর একটি রুমের দরজা বন্ধ দেখে আমি পুলিশকে খবর দেই। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।’
আরও পড়ুন:
নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমি সকালে সুপারি নিয়ে আমতলী বাজারে যাই আমতলী থেকে ফিরে ওদেরকে ঘরে দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই আমাকে এলাকার এক বড় ভাই গিয়ে জেলা পরিষদ ডাকবাংলায় নিয়ে আসে এবং এসে এই অবস্থা দেখতে পাই।’
নিহতের বড় বোন রিতা রানি বলেন, ‘তাদের পরিবারে কোনো ঝামেলা ছিল না। শুধু বিভিন্ন ব্যাংকের কিস্তি ছাড়া। বেশ কিছু ব্যাংকে ঋণ থাকায় সব সময় খুব টেনশনে থাকতো আমার বোন।’
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা, মৃতদেহের পাশে মিলেছে ঘুমের ওষুধ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যা হতে পারে। তবে আরও গভীর তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে।’





