‎পেকুয়ায় চুরির অভিযোগে ৯ বছরের শিশুর দাঁত ফেলে দেয়ার অভিযোগ

শিশুর দাঁত ফেলে দেয়ার অভিযোগ
এখন জনপদে
অপরাধ
1

‎কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় চুরির অভিযোগ তুলে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে মারধর করে তার একটি দাঁত ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল (‎শুক্রবার, ৩ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা লাইনের শিরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎অভিযুক্ত আবদুল করিম (২৫) একই এলাকার নবি হোসেনের ছেলে। ‎আহত শিশু আরাফা সুলতানা (৯) একই এলাকার নুর সুলতানের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

‎শিশুটির বাবা নুর সুলতান বলেন, ‘গতকাল আমার মেয়ে প্রতিবেশী আবদুল করিমের মেয়ের সঙ্গে খেলতে তাদের বাড়িতে যায়। এসময় আবদুল করিম আমার মেয়ের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। এরপর তার গলা চেপে ধরে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমার মেয়ের একটি দাঁত পড়ে যায় এবং আরেকটি দাঁত নড়ে যায়। মারধরের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং সে গুরুতর আহত হয়। পরে খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’

আরও পড়ুন:

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন বর্বরোচিত নির্যাতন মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের পরিচয় বহন করে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

‎এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘টইটং এলাকায় ৯ বছরের এক শিশুকে মারধর করে দাঁত ফেলে দেয়ার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’

‎পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এসএস