আজ (শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন কারখানা থেকে শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার অন্যান্য খরচের জন্য নগদ ১ কোটি টাকা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় চীনা নাগরিক এক ব্যবসায়ীর গাড়ি। পথে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাডেট ক্লাবের সামনে যাত্রাবিরতিকালে গাড়িতে থাকা ওই ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান। পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি মালিকের মোবাইলফোনে একটি অনুশোচনামূলক খুদে বার্তা পাঠিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা হওয়ার পর শিল্প-সংশ্লিষ্ট বিষয় হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এবং ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে ঢাকা, গাজীপুর ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় মূল অভিযুক্ত জাহিদ হাসানকে ঝিনাইদহ সদর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তার বাসা থেকে ৮৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়া জাহিদের মামা জয়নুজ্জামানের কাছ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় তিনজনকেই।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চুরি করা টাকা থেকে জাহিদ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে নতুন বাসা ভাড়া নেন এবং বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনেন। এছাড়া ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি নতুন মোবাইল ফোনও কিনেছিলেন তিনি। অভিযানে চোরাই টাকায় কেনা আসবাবপত্র ও মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ জানায়, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক এবং চুরি হওয়া টাকার বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারকৃত টাকা ও অন্যান্য আলামতসহ রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।





