গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর) রাতে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমন। বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার মাথায় পিস্তল দিয়ে আঘাত করেন সাইমন। এতে ওই ব্যক্তি রক্তাক্ত হন। পরে ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় দুই থেকে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘সাইমন নামের যে সন্ত্রাসী, উনি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। সামনে একটা চিপা আছে, চিপাতে নিয়ে তাকে আহত করা হয়। হয়তো সুইচ গিয়ার বা পিস্তলের বাট দিয়া অজস্র রক্ত পড়া শুরু করে, আমরা জানি না কেউ। তাৎক্ষণিক দৌড়াইয়া মানে মনে করেন একটা ফার্মেসিতে ঢুকছে। ঢোকার পর অজস্র ট্রিটমেন্ট শেষ হয়, তখন জানা যায় যে সোহানকে স্ট্যাব করা হইছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘এর নামে আরও অনেক ধরনের অভিযোগ আছে। এটা একজন আমি না, এলাকার মানুষই সাক্ষী। রাত বাজে ১২টা, সাধারণ মানুষ এখনো রাস্তায়। বুঝতে পারতেছেন একজনের জন্য?’
আরও পড়ুন:
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাইমনের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তার বাসা ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়ে। পরে ডিবি সদস্যরা তাকে হেফাজতে নিয়ে যায়।
তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ‘আসামিদের বাসার সামনে দেখা যাচ্ছে যে আসামিসহ আসামির ভাই এবং আসামির বন্ধুরা ছিল। তো তাদেরকে ঘেরাও করে মোটামুটি এখানে তাদেরকে মোটামুটি একটা গণধোলাই দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন আমরা পরবর্তীতে রাজারবাগ এবং মিরপুর থেকে এক্সট্রা ফোর্স নিয়ে এসে এই ভিকটিম এবং আসামি যারা আর কি তাদেরকে আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আমাদের সোয়াট টিমও আসে। সোয়াট টিম এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তো সর্বোপরি আমরা আসামিদের আমাদের হেফাজতে নিয়েছি।’
এই ঘটনায় রাতেই হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সোহান। মামলায় ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে প্রধান আসামি করে মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি হাতিরঝিল থানার ওসি।
তিনি বলেন, ‘একটা অভিযানের যদি সিনিয়র স্যাররা থাকে, সেখানে কি আমি কোনোকিছু বলতে পারি?’
ভুক্তভোগী মো. সোহান বলেন, ‘ও দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারী, নেশাদ্রব্য, মাদক ব্যবসা সব ও করে। সাইমন, ওমর, মিজান, ওর ছোট ভাই মিজান, ও ছিল। তারপর আপনার ওর সঙ্গে আর একটা ছেলে ছিল মোরশেদ ছোট, আর আর দুইজন তিনজন ছিল, ওর সাথে আমি চিনি না ওদের। তো ওরা ঐখানে ছিল।’
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘সে এলাকার ওই একটা চাঁদাবাজ। আর এই যে বিএনপির নাম ভাঙ্গায় খায়, কিন্তু বিএনপির কোনো লোক না। আমারে একবার রমজানের মধ্যে আমার শার্ট-শুট ছিঁড়া মারছে, আমি থানায় অভিযোগ দিছি। কিন্তু বিচার কিছুই, কিছুই করে নাই।’
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গোলাগুলি, হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।




