বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: চাপ সামলাতে কোন পথে হাঁটবে সরকার?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের একটি ধ্বংসযজ্ঞ; জ্বালানি তেল
অর্থনীতি
0

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার মধ্যেই নতুন করে শঙ্কা তৈরি করলো ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ায় চাপে পড়তে পারে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি পরিকল্পনায় রাখতে হবে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ।

আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে যখন হিমশিম অবস্থায় সরকার, ঠিক তখনই যেনো ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাত। এতে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আর্থিক ঝুঁকি।

এমন এক সময় এ সংঘাত শুরু হয়েছে, যখন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ এবং অর্থনীতিতে অলিগার্ক কাঠামো ভেঙে দিতে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতই হবে সরকারের অগ্রাধিকার। এছাড়া রয়েছে ফ্যামিলি, কৃষক ও স্বাস্থ্য কার্ড এবং শিক্ষার্থীদের ‘মিড ডে মিল’।

আরও পড়ুন:

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিকল্পনার মধ্যে থাকতে হবে অন্তবর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখা। এছাড়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেতে গিয়ে যে অর্থ খরচ হবে তার যোগান নিশ্চিত করা পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার রাখার পরামর্শ তার।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় আহরণ কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, এটা প্রথম দিন থেকে তাদের পরিকল্পনা করতে হবে। মূলত এখানে আমাদের যে বিভিন্ন ঘাটতি আছে, দুর্নীতি আছে—সেগুলোকে বন্ধ করা, ভিত্তি বিস্তৃত করা, আদায়টা ঠিকভাবে করা; এটার একটা বিষয় থাকবে। দ্বিতীয়ত যেটা, সেটা হলো যে, অভ্যন্তরীন সঞ্চয় আহরণ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভর করবে, আমরা কীভাবে বিনিয়োগকে চাঙ্গা করতে পারি। মানুষের যে জীবনমানের অবনমন হয়েছে, তার সঙ্গে নির্ভর করবে কর্মসৃজন কীভাবে করা যেতে পারে।’

তবে আরেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় থাকতে হবে জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ধাপ। যাতে করে ইসরাইল, আমেরিকা আর ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেয়া যাবে জরুরি পদক্ষেপ।

পলিসি একচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমাদের যে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট, এটার সবচেয়ে বড় অংশটা হলো মধ্যপ্রাচ্য, রেমিট্যান্সের একটা বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য। এখণ যুদ্ধ যদি প্রলম্বিত হয়, তাহলে যারা সেখান থেকে টাকা-পয়সা পাঠায়, তাদের টাকা-পয়সা পাঠানো, তাদের চাকরি—সবকিছু হুমকির মুখে আসতে পারে, আর নতুন রিক্রুটমেন্ট দেরি হয়ে যেতে পারে। সেটা কিন্তু আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং এমপ্লয়মেন্ট দুটা জায়গাতেই একটা নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। সুতরাং, এটাকে মাথায় রেখে এখন যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করতে হবে, সেখানে একটা আর্জেন্ট সেকশন থাকতে হবে। সেই আর্জেন্ট সেকশনটা হলো, ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের যে সংঘাত শুরু হয়েছে, এর প্রভাব কীভাবে সামাল দেয়া হবে?’

এছাড়া দুর্নীতি রোধ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বড় কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের চেয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর সরকারকে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এসএইচ