খালাস না হওয়ায় নদীতে ভাসছে জাহাজ: আটকে ৪০ হাজার টন খাদ্যশস্য

চট্টগ্রাম বন্দর
অর্থনীতি
0

যথাসময়ে খালাস করতে না পারায় প্রায় ৪০ হাজার টন সরকারি খাদ্যশস্য নিয়ে নদীতে ভাসছে অর্ধ শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ। এ নিয়ে শিপিং এজেন্ট, পরিবহন ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তারা একে অপরকে দায়ী করছেন। এ অবস্থায় ডেলিভারি কম হওয়ায় সাইলোতে খাদ্য পণ্য রাখার জায়গাও ফুরিয়ে এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা সরকারি চাল, গমসহ খাদ্যশস্যর সিংহভাগ বিদেশি বড় জাহাজ থেকে খালাস হয় ছোট লাইটার জাহাজে। নানা সংকটে খালাস না হওয়ায় প্রায় ৪০ হাজার টন গম নিয়ে নদীতে ভাসছে অর্ধ শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ। কারণ হিসাবে কেউ বলছেন, বস্তার সংকট, কেউ বলছেন জনবল নেই আবার কারো দাবি পরিবহন ভাড়া সমন্বয় না হওয়ায় ডেলিভারি বন্ধ রেখেছে ঠিকাদাররা।

আমদানি করা এসব খাদ্য দ্রুত খালাস, সংরক্ষণ ও বিতরণে দেশের চারটি সাইলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন। এর মধ্যে পতেঙ্গার সাইলোটি সবচেয়ে বড়। জনবল, বস্তা ও পরিবহন সংকটসহ নানা সমস্যায় সাইলোটি সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না।

আমদানি করা সরকারি খাদ্য শস্যের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম সাইলোর মাধ্যমে খালাস ও বিতরণের কথা থাকলেও হচ্ছে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। বর্তমানে নারায়নগঞ্জ, মোংলা ও খুলনার তিনটি সাইলোতে ধারণক্ষমতার বেশি গম পাঠানো হয়েছে, অথচ পরিবহন সংকটে ডেলিভারি হচ্ছে ধীরে। এজেন্টের অভিযোগ, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির পরও পরিবহনে ভাড়া বাড়ায়নি সরকার। তাই পরিবহন ঠিকাদাররা দূরবর্তী খাদ্য গুদামে পণ্য না নেয়ায় এই সংকট।

খাদ্য সরবরাহকারীর স্থানীয় এজেন্ট মো. আলী আকবর বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। এখন ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত তারা পণ্য পরিবহন করতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে দূরে যেগুলো যাবে, এগুলোতে যেহেতু তেলের খরচ বেশি, এগুলো যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:

ঠিকাদারদের দাবি, যানবাহন সংকট নয় বস্তা ও জনবলের অভাবই এ সংকটের মূল কারণ। চট্টগ্রাম সাইলোতে মেশিন অপারেটরসহ বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় তিন শিফটের পরিবর্তে কাজ চলে দুই শিফটে। তাছাড়া নেই পর্যাপ্ত বস্তাও।

খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সভাপতি এস এম আবু মনসুর বলেন, ‘বস্তার সমস্যা, ওখানে এভেইলেবল বস্তা নেই। আর দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে উনাদের ইন্টারনাল অপারেটিং সমস্যা আছে। ওখানে মেশিনম্যান নাই, পর্যাপ্ত জনবল নাই। তো সেগুলো তো আমাদের ওপর চাপালে হবে না।’

খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার জাকের হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন ২ হাজার টাকা গাড়ি ডেমারেজ দেয়া লাগে। অথচ তেলের দাম বৃদ্ধির পরও প্রতিদিন গাড়ি এখানে এক্সেস হচ্ছে। যতভাবে তাদেরকে বলছি, তাদের তিনটি গ্যাং- এ, বি, সি। এ গ্যাং, বি গ্যাং, সি গ্যাং- তিনটা গ্যাং আছে। কিন্তু কোনোরকমে সাইলো সুপার তিনটা গ্যাং চালাইতে পারতেছেন না।’

জনবল ও পরিবহন সংকটের বিষয়টি স্বীকার করলেও চট্টগ্রাম সাইলোতে বর্তমানে বস্তার সংকট নেই বলে দাবি সাইলো সুপারের।

সাইলো সুপার রাকিবুল হাসান বলেন, ‘গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরেই জনবল সংকটটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখন এখানে পরিবহন সংকট বলতে আসলে মাঝখানে তেলের কিছু সমস্যা ছিলো, সে কারণে এই সংকটটা দেখা দিয়েছে। এখন সবকিছু মোটামুটি স্বাভাবিক আছে এবং সুন্দরভাবে কাজ চলছে।’

চারটি সাইলোতে বর্তমানে গম মজুদ আছে ২ লাখ ৩০ হাজার টন। এ অবস্থায় দ্রুত ডেলিভারি ও বিতরণ না বাড়লে পাইপলাইনে থাকা গম ও চাল খালাসে সংকট আরও বাড়বে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এফএস