ইরান যুদ্ধের কারণে গত দুমাস হরমুজ বন্ধ থাকায় কোনো ক্রড অয়েলের জাহাজ দেশে আসেনি। এতে কাঁচামাল সংকটে গত ১৩ এপ্রিল বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় স্থাপিত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল দুটি ইউনিট।
২১ শে এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এক লাখ টন ক্রড বোঝাই জাহাজ এমটি নিনেমিয়া। হরমুজ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে লোহিত সাগর পাড়িয়ে দিয়ে সকালে কতুবদিয়ায় পৌঁছায় জাহাজটি। মাদার ভেসেল থেকে তেল খালাসের পর সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছে দেবে লাইটারেজ জাহাজে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘আমাদের যে টাইমলাইন আমরা মেইনটেইন করি, এ ১ লাখ টন প্লাস মাইনাস ৫ হাজার কার্গোটা খালাস করতে সর্বোচ্চ টাইম লিমিট দেয়া থাকে ১০ দিন। কারণ ১০ দিনের বেশি যদি আমরা মাদার ভ্যাসেলকে আটকে রাখি তখন সার্টেন অ্যামাউন্ট অফ আমাদের ফরেন কারেন্সিতে ডেমারেজ দিতে হয়।’
আরও পড়ুন:
স্বস্তির খবর চলতি মে ও আগামী জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে আসবে দুই লাখ টনের আরও দুটি ক্রডের চালান। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়া এক লাখ টনের ক্রড অয়েলও আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে তেল পরিবহনকারী সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
প্রাথমিকভাবে অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার টন তেল টাংকিতে পাম্পিং করে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্টে নেয়া হবে। বৃহস্পতিবার ফের চালু হচ্ছে একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারটি। পাইপলাইনে থাকা ক্রডের চালান আসলে আগামী তিন মাস আর কাঁচামালের সংকট থাকবেনা বলছেন কর্মকর্তারা।
ইস্টার্ন রিফাইনারি শিপিং এজিএম মো. শাহীনুর তালুকদার বলেন, ‘এই ১ লাখ টন কার্গো তো হাতে পাচ্ছি নিশ্চিত। আমরা মিনিমাম ২২ দিন আমরা রান করতে পারবো। আর এর মধ্যে যদি আমাদের পরবর্তী মাদার ভ্যাসেল চলে আসে ১০ তারিখে যেটা লোডিং হবে, আমরা যদি আগামী ২৪ তারিখে আরেকটা মাদার ভ্যাসেল পেয়ে যাই তাহলে আমরা আরও ২৫ দিন রান করতে পারবো।’
দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ যোগান দেয় ইআরএল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ক্রড অয়েল আমাদনি নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ায় বর্তমানে বিকল্প বাজার খুঁজছে বিপিসি।




