ভোমরা কাস্টমস হাউসের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ভোমরা বন্দর দিয়ে ১৫ লাখ ৪ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন দেশিয় পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্যের আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ২ হাজার ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার মতো। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১ কোটি ৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৮ টাকা।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি নেমে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ের ওপর। বিশেষ করে আমদানি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
একসময় ভোমরা বন্দর দিয়ে জনপ্রিয় শিশুখাদ্য, তৈরি পোশাক, আসবাবপত্র, কৃষিপণ্য ও ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়মিত রপ্তানি হতো। বর্তমানে এসব পণ্যের রপ্তানি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে।
ভোমরা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বর্তমানে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের বাধা নেই এবং সব ব্যবসায়ীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, দেশে সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। রপ্তানি বাণিজ্যের বহুমুখীকরণে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভোমরা স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ভোমরা কাস্টম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বলেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি একটি বড় অর্জন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাণিজ্যের গতি কিছুটা কমে গেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী।
অন্যদিকে ভোমরা বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দাভাব বিরাজ করছে। আমদানি-রপ্তানি হ্রাস, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ সংকট এবং কর্মসংস্থানের স্থবিরতা বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের জটিলতা ও বাজার সংকোচনের কারণে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোমরা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, কাস্টমস কার্যক্রমের আরও আধুনিকীকরণ, পণ্য বহুমুখীকরণ এবং ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা গেলে বন্দরটির বাণিজ্যিক সক্ষমতা অনেকগুণ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ফিরলে ভোমরা বন্দর আবারও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।





