বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি কমাতে নতুন খাত থেকে কর আদায়ের পরামর্শ সিপিডির

সিপিডির প্রাক বাজেট আলোচনা সভা
বাজেট
অর্থনীতি
0

রাজস্ব আহরণ পদ্ধতির পরিবর্তন না হলে আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো ঘাটতি থাকবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির পরামর্শ নতুন নতুন খাত থেকে কর আদায় করা জরুরি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বিবেচনায় খাদ্যে ভর্তুকি বাড়াতে তাগিদ দেন বক্তারা।

নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বাজেট, যা ঘোষণা হবার সম্ভাব্য তারিখ ১১ জুন। চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

এ নিয়ে রাজধানীর গুলশানে আগামী বাজেট কেমন হতে পারে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা বিষয়ক এক প্রাক বাজেট আলোচনা করে সিপিডি। যেখানে শুরুতেই সিপিডির সিনিয়ার গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, আগামি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পদ্ধতিগত পরিবর্তন না হলে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো ঘাটতি থাকবে। পাশপাশি কর আহরণ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

আরও পড়ুন:

এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকল্পে ব্যয় না করলে রাজস্ব আদায় কমবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা। এমনকি ডিজিটাল আয় করা প্ল্যাটফর্মে কর আরোপেরও তাগিদ দেন তারা। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বিবেচনায় খাদ্যে ভর্তুকি বাড়াতে তাগিদ দেন বক্তারা।

আলোচনায় সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, জনগণের কর দেয়া এবং নেয়ার পার্থক্য অনেক বেশি, তা কমিয়ে জিরোতে আনতে পারলে বাজেটের প্রকৃত সুফল আসবে। একদিকে ঋণ বাড়ছে অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের চাহিদা বাড়ছে। এগুলো সমন্বয়ের তাগিদ দেন সিপিডির এই সিনিয়র সদস্য।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জনগণ দিচ্ছেন এবং সরকার পাচ্ছেন এটাকেই বলা হয় হলো দুর্নীতি। তাই আমার মনে হয়, প্রথম যে জায়গাটায় হিট করা উচিত, সেটা হলো এই পার্থক্যটাকে কতটুকু আমরা কমাতে পারি! এটাকে যদি জিরো করতে পারি আমরা, তাহলে আমাদের আরও অন্য কাজগুলো কিন্তু সহজ হয়ে যায়।’

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘তিন থেকে চার মাসের সময়কালের অর্থনৈতিক একটা কৌশলপত্র দিতে পারতেন। স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্র যদি একটা থাকতো, তাহলে একদিকে যেমন থাকতো যে, আমাদের নীতির ধারবাহিকতা কীভাবে থাকবে, এটা থেকে উত্তোরণের জন্য কী ধরনের সংস্কার কর্মসূচিকে আমরা অব্যাহত রাখবো, সেটার বিষয় ছিলো।’

মহিলা শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের শহর এবং গ্রামে বস্তি এলাকাগুলোতে যারা থাকে তাদেরকে আমরা প্রায়োরিটি দিচ্ছি।’

এছাড়া দুর্নীতি জিরোতে নিতে পারলে বাজেট বাস্তবায়ন সহজ হবে বলেও মনে করছেন বক্তারা।

এসএইচ