এজন্য বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ধন্যবাদও জানিয়েছে সংস্থাটি। আজ (শুক্রবার, ১২ জুন) বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিকেএমইএ’র মতে, বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মধ্যমেয়াদি নীতিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, শিল্পখাতের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিলো উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়, বহন বা ফেরতের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। ফেরৎ প্রাপ্তিটা চেক অথবা ইনস্ট্রুমেন্টাল ফর্মে হতে পারে যা প্রয়োজনে অন্যান্য সরকারি পাওনার সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে। বিষয়টি আরও স্পষ্টিকরন করা প্রয়োজন।
আরও জানানো হয়, উৎসে অগ্রিম কর কেটে নেয়ার পর তা সময়মতো সমন্বয় বা ফেরত না হলে ব্যবসার কার্যকর মূলধন আটকে যায়। এর ফলে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়, ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ে এবং শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়, যা এতদিন হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মাউন্টিং স্ট্রাকচার এবং সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর কর সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এনবিআর এবং অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এটি একটি গঠনমূলক পদক্ষেপ।
রপ্তানিমুখী নন বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি এবং দেশিয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক বলেও এ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাটি মনে করছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক। এ ধরনের নীতিগত ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন:
তবে পলিয়েষ্টার ষ্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ট্যাক্স কতটুকু সময়োপযোগী বা বাস্তব সম্মত তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে বিকেএমইএ বলছে, দেশের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান যা উৎপাদন করে, তা এই মুহূর্তে দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম। দেশিয় উৎপাদনকে সেইফগার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আমরাও একমত, কিন্তু পাশাপাশি ভাবতে হবে সেটা করতে গিয়ে প্রতিযোগী সক্ষমতা হারিয়ে বাজার হাতছাড়া হয় কি না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বাজেটে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই। বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি এখনও অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য দেশিয় গ্যাস অনুসন্ধান উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন।
আরও বলা হয়, উচ্চ ঋণসুদও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে জানিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতিবেশী অনেক দেশ শিল্পভূমি, মূলধন সহায়তা, শ্রমিক মজুরি সহায়তা এবং রপ্তানি প্রণোদনাসহ নানা ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে বাংলাদেশকেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
বিকেএমইএ আরও জানায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাজেটে কিছু আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ রয়েছে, বিশেষ করে সংকটে থাকা ও বন্ধ কারখানার জন্য সহায়তা কর্মসূচি। এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে নীতিগত দিক থেকে বাজেটটিকে ইতিবাচক মনে করছে সংস্থাটি। তবে বিকেএমইএ মনে করে, এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সহজ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এসব উদ্যোগ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্প পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





