বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ওই সময় অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পোঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রয়েছে। এসব এলএনজি মূলত কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এই এলএনজি ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া, একটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এসেছে, যা গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি কয়েকটি জাহাজে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস ওয়েল, শিল্পখাতে ব্যবহৃত ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে।
অন্যদিকে কয়েকটি কার্গো জাহাজে বিভিন্ন শিল্প কাঁচামাল আনা হয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণ ও প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যবহার করা হবে।
আরও পড়ুন:
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণে সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
এসব জাহাজে এলএনজি, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প কাঁচামাল রয়েছে। বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকারও রয়েছে। সামুদ্রিক জাহাজের জ্বালানি, কয়েকটি কার্গো জাহাজে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এসেছে, প্লাস্টিক বা পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল কারখানার বিভিন্ন উপকরণ এগুলো বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, প্লাস্টিক শিল্প, রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হওয়ার পণ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে শনিবার এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম বলেন, চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে। জাহাজটিতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে এবং এটি প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। তবে পরবর্তী চালানগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার আগে তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরই মধ্যে অধিকাংশ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির বিষয়।





