বাণিজ্য ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালেও ঘাটতি চড়া; সমাধানে চীনা বিনিয়োগের তাগিদ

বাংলাদেশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য
আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি
0

বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছাড়িয়ে গেছে ১৯ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ভারসাম্যেও আছে বড় পার্থক্য। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ঘাটতি কমাতে চীনা বিনিয়োগের বিকল্প নেই। শূন্য শুল্কের সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবকাঠামো ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করতে হবে।

চীনের সঙ্গে ৫০ বছরের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের। বর্তমানে রপ্তানিতে শূন্য শুল্কের সুবিধা পাচ্ছে টেক্সটাইল পণ্য। যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর গেল পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, রপ্তানির পরিমাণ গড়ে প্রায় ৭০ কোটি ডলার হলেও ১৭ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি পৌঁছেছে ১৮ বিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৭ কোটি ডলারের পণ্য।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যা দিন দিন আরও বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টেক্সটাইল শিল্পে শূন্য শুল্কে বাজার সুবিধা পেয়েও কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। ঘাটতি কমাতে যোগাযোগ বাড়াতে হবে চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে।

অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘যদি বাণিজ্য ঘাটতি নিরসন করতে হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে। তার কারণ এ শূন্য শুল্কের সুবিধা খুব বেশিদিন থাকবে না। আমরা যখন এলডিসি গ্র্যাজুয়েট করব, এর পরে কিন্তু তারা আমাদেরকে শূন্য শুল্কের সুবিধাটা দিবে না। সুতরাং চীনের বায়ারদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগটা বাড়াতে হবে।’

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে এ ধরণের অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদের ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘চায়নার সঙ্গে বাংলাদেশের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার জায়গা রয়েছে। সেই জায়গাটাকে নিয়ে কাজ করা দরকার এবং সে জায়গাগুলোতে কিভাবে চায়নিজ বিনিয়োগকারীদের আমরা এখানে আনতে পারব, সেখানে আমাদের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে এবং আমাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক এই সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলছেন, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হবে বাংলাদেশকে। যাতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি না হয়।

ঢাকা, বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা জায়গাকে হাইলাইট করে করতে পারে, সেটা হচ্ছে যে 'রাইট টু ডেভেলপমেন্ট'। যে বাংলাদেশের যে ধরনের উন্নয়নের প্রয়োজন আছে, সেই কারণে যে কোনো দেশ থেকে সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রয়োজন। ফলে আমাদের এই বার্গেনিংয়ের জায়গাটাকে পরিষ্কার করে দিতে হবে যে আমাদের কতগুলো রেড লাইন থাকবে।’

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও কৃষি পণ্য চীনা বাজারে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

এফএস