জাপানে রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন আশার আলো, সম্ভাবনাময় চামড়া ও জুতা

তৈরিজাত পণ্য
আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি
0

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান। দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্রটির বিশাল বাজারে প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানিতে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। আর জাপানি ক্রেতারা বলছেন, গুণগত মান, সময়মতো পণ্য সরবরাহ আর কার্যকর প্রচারণা চালালে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য নতুন গতি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাপান সফরের পর সেই সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে আশাবাদী রপ্তানিকারকরাও।

গত অর্থবছরে জাপানে ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা মোট রপ্তানি আয়ের ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত এক দশকে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। রপ্তানি পণ্যের অন্যতম পোশাক এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য।

জাপানি ক্রেতারা বলছেন, জাপান বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতির দেশ হলেও বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না বংলাদেশ। জাপানের ক্রেতারা খোঁজেন গুনগত মান এবং সঠিক সময়ে পণ্য রপ্তানির নিশ্চয়তা। এ দুটি চাহিদা মেটাতে পারলে জাপানের সাথে বাণিজ্য আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

জাপানি বায়ার তয়োকাজু ফুকুই বলেন, ‘সবাই জানে জাপানের পণ্যের মান ভালো। বাংলাদেশ যদি সেই একই মানের পণ্য তৈরি করতে পারে, তাহলে জাপানের অনেক ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে আসবে। বর্তমানে সেটির জন্য জাপানের বাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হয়ে আছে।’

জাপানের ইয়ানো রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশটিতে চামড়াজাত জুতা ও প্যণের বাজার বাড়ছে। চলতি বছরে জুতার বাজার ২ দশমিক শূন্য ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পর বাংলাদেশে এ খাতের শিল্প মালিকরা বেশ আশাবাদী। রপ্তানিকারকদের মতে, প্রচারণা বাড়ালে জাপানে জুতার বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি হবে।

রিফ লেদারের পরিচালক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি না যাই ফেয়ারে, তাহলে আমাদের প্রোডাক্ট কীভাবে দেখবে? এক একটা বায়ারের এক এক রকম চাহিদা থাকে। তো এখানে যদি আমাদের দশটা ট্যানারিও যদি যায় বা আমাদের প্যাভিলিয়ন থাকে তাহলে দশ রকম আমরা আর্টিকেল নিয়ে গেলে তাহলে বাংলাদেশের প্রতি তাদের আলাদা একটা ইম্প্রেশন হবে যে না বাংলাদেশ তো পারে বা বাংলাদেশ করে।’

চামড়াজাত ব্যাগেরও ব্যাপক চাহিদা আছে জাপানে। গত অর্থবছরে ৮০ মিলিয়ন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য জাপানে রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। দামে সস্তা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকায় চামড়াজাত পণ্যের বড় বাজার হতে পারে জাপান।

টিকে ফুটওয়্যারের হেড অব বিজনেস মাসুদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি অর্নামেন্টের ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করা হয়, তাহলে কিন্তু আমরা প্রাইজ বেনিফিট করতে পারব। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ যেটা করে, ওরা হিউজ ভলিউম অর্ডার দেয়। বাট ওই ক্ষেত্রে প্রাইজ কিন্তু কম। জাপানের মার্কেট হলো ওরা ভলিউমটা কম দেয়, বাট প্রাইজ একটু ভালো দেয়। ওই ক্ষেত্রে আমরা ইম্পোর্টের উপরে ডিপেন্ড করতে পারি এখন।’

এদিকে পোশাক রপ্তানিতেও জাপান নতুন বাজার হয়ে উঠছে বাংলাদেশের জন্য। চলতি অর্থবছরে তিন মাসে ৩৪৩ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশ যে ধরণের পোশাক তৈরি করে, সেসব পোশাকের জাপানে চাহিদা রয়েছে।

প্যাসিফিক জিন্সের এমডি সৈয়দ এম তানভীর বলেন, ‘আমাদের কিন্তু গত ১০ বছরে আমরা জাপানে কিন্তু এক্সপোর্ট আমাদের কন্টিনিউয়াসলি বেড়েছে। এক্সপোর্ট মার্কেট ডাইভারসিফিকেশনের যে ফোকাস, এটিতে ডেফিনেটলি জাপান একটি প্রসপেক্টিভ মার্কেট। সো আমার মনে হয় যে এটা আমরা ফিউচারে এখন যা আছে তার থেকে আরও বেটার এক্সপোর্ট করতে পারব।’

বর্তমানে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ৪০০ রকমের পণ্য রপ্তানি করে।

জেআর