বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা কেবল এক বিস্তৃত জলরাশি নয়। এ সমুদ্র ও পার্শ্ববর্তী উপকূল অঞ্চলে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা ভৌগলিক ও পরিবেশগত পরিবর্তন।
অথচ এতদিন গভীর সমুদ্রের নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভর করতে হতো বাংলাদেশকে। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দেশের প্রথম ওশান গ্রাউন্ড স্যাটেলাইট স্টেশন যাত্রা শুরু করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।
মহাকাশে থাকা ১১টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এই অত্যাধুনিক গ্রাউন্ড স্টেশনে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি, জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা, মৎস্যসম্পদের অবস্থান, উপকূলীয় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—সবই পাওয়া যাবে তাৎক্ষণিক। গবেষণা, পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে এসব তথ্য হবে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
চবি ওশান গ্রাউন্ড স্যাটেলাইট স্টেশনের পরিচালক মোসলেম উদ্দীন মুন্না বলেন, ‘আমাদের ফ্যাসিলিটিজের জায়গা হলো আমাদের গবেষণার জায়গা উন্মুক্ত করা। আমাদের তথ্য উপাত্ত না থাকার কারণে সমুদ্র নিয়ে স্প্যাসেফিক গবেষণা করতে পারছি না। কন্টিনিউয়াস ডাটা রিসিভ করার একটি জায়গা তৈরি হলো। এতে করে স্টুডেন্টরা এখন ওয়াল্ড ক্লাস গবেষণা করতে পারবে।’
আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে স্টেশনটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সফলভাবে শেষ হয়েছে। প্রত্যাশিত ১১ টি স্যাটেলাইটের যোগাযোগও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর শুরু হবে যাত্রা। বর্তমান ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের তথ্য পেতে যেখান যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের সহয়তায় প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় লাগে- এখন তা পাওয়া যাবে ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই।
চবি উপাচার্য কামাল উদ্দীন বলেন, চায়নার সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানগ্রাফি, ওনারাই এ স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করে, তারা অর্থায়ন করে। আমার সেখানে যাই। সেখানে শুধু বাংলাদেশ কম্পিটিটর ছিলো না। আমি বলছি ফাইনাল স্টেজের কথা। আমরা ফাইনালি প্রজেক্টটি পেয়েছি। চবিতে স্যাটেলাইট স্টেশনের গ্রাউন্ড হয়।’
শুধু দুর্যোগ পূর্বাভাস নয়, মহাকাশ থেকে পাওয়া তথ্য দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যোগ করবে নতুন মাত্রা ।
তিনি বলেন, ‘আমরা অথেনটিক ডেটা পাবো। অ্যাকাডেমিক নলেজকে ডিসিমিনেট করবে। এটি অর্থনীতিক মূল্যায়ন কঠিন। এটি বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে। আমাদের থেকে কেউ ডেটা নিতে চায় যদি তাহলে ফ্রি ডেটা তো কেউ দিবে না। অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করতে গেলে সেখানে ডেটাগুলো কিনে নিতে হবে।’
চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি সহায়তায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই গ্রাউন্ড স্যাটেলাইট স্টেশন।





