ঢাবির হলে পোকামাকড়-ছাড়পোকা; ব্যাহত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
দেশে এখন , ক্যাম্পাস
শিক্ষা
0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নানা উদ্যোগের পরেও হলগুলোতে ঠেকানো যাচ্ছে না পোকামাকড়, মশা, ছাড়পোকার উপদ্রব। ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়েও নানা অভিযোগ। খাবার-আবাসন-পরিবহন নিয়েও আছে অসন্তোষ। এতে ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে তারা আন্তরিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সর্বপ্রথম উচ্চশিক্ষার সরকারি বিদ্যাপীঠ। ছাত্র-শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রিত হবার প্রেক্ষাপটে এটি ধীরে ধীরে স্বমহিমায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কিউএস র‍্যাংকিংয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই স্থান পাওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন, হল, ক্যান্টিনের খাবার, পরিবেশ, পরিবহনসহ নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।

ছাত্রদের অভিযোগ—ছাড়পোকা, মশা, মাছি, তেলাপোকার উপদ্রব বেড়েছে হলে হলে। হল প্রভোস্টদের বাধা থাকার পরও কৌশলে ছাত্রদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে একাধিক হলে এখন টিভির প্রতিনিধি দলকে ঢুকতে হয় অনেকটা গোপনে।

সরজমিনে দেখা গেছে, হলে হলে পলেস্তারা খসে পড়ছে, নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ছাড়পোকার বংশবৃদ্ধি। শিক্ষার্থীরা জানান, সব মিলিয়ে বিনষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রত্যেকটা বলেই আসলে ছাড়পোকা আছে।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখন আমার তো সামনে হচ্ছে সেমিস্টার ফাইনাল। আমি কীভাবে কী করবো? রাতে যদি ঘুমাইতে না পারি তাহলে পড়াশোনা কীভাবে করবো?’

এসএম হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কারওয়ান বাজার থেকে এটা হচ্ছে একদম থার্ড গ্রেডের সবজি বা বাছাইকৃত খারাপ থাকে না? সেইগুলো অনেক সময় নিয়ে আসে।’

ক্যান্টিনে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের ওপরে শুকানো হচ্ছে কর্মচারীদের পোশাক, আর তার নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার তৈরির আয়োজন।

ক্যান্টিনের কর্মচারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কোন জায়গায় রাখমু? দেখেন না আমগো জামা-কাপড়, পোশাক। আমগো একটা রুম নাই যে আমরা একটু বিশ্রাম নিমু বা একটা রুমে থাকমু বা রুমে রাখমু, আমগো হেই জায়গাটা নাই। এখানে থাকি, এখানে সবকিছু আমগো।’

আরও পড়ুন:

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার জানান, হলগুলোতে অব্যবস্থাপনা দেখাশোনার দায়িত্ব হল প্রভোস্টের। তাই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে।

ঢাবি রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘হল প্রশাসন আছেন, এখন তো হলে ছাত্র সংসদও আছে। এগুলো তো তাদেরই দেখার কথা। হলে আমাদের ইন জেনারেল সেকশনকে তাদের জানাতে হবে লিখিতভাবে যে আমাদের হলে এই কয়টা ১০টা রুম বা ২০টা রুমে ছাড়পোকার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এটা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিতে তারা বলবে ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। খাবারের মানটা নিয়ে হয়তো অনেক সময় অভিযোগ বিভিন্ন ধরনের আসছে।’

অপরদিকে, দুই কার্যদিবস অপেক্ষা করেও এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নবাব সলিমুল্লাহর দান করা ৬০০ একর জমির ওপর নির্মিত গবেষণাধর্মী এ বিদ্যাপীঠে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা দুই হাজারের ওপরে।

এসএস