শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল রাকসু?

রাজশাহী
এখন জনপদে , ক্যাম্পাস
শিক্ষা
0

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হয়েছিলো কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসন, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও পরিবহনব্যবস্থার প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হয়েছিলো রাকসুর পথচলা। কিন্তু এক বছর পর প্রত্যাশার বড় অংশই হতাশায় রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে রাকসুর নেতৃত্বের দাবি, ইশতেহারের প্রায় শতভাগ বাস্তবায়িত করা হয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যার সমাধান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন, সঙ্গে নানা বিতর্কও।

দীর্ঘ অচলায়তন ভেঙে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো রাকসু নির্বাচন। এ বছর ২৬ অক্টোবর এক বছর মেয়াদ শেষ হলো রাকসুর। গত বছর ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসুতে ২৩টি পদের ২০টিতে জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচনের আগে ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো বিজয়ী প্যানেল।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বী। কিন্তু এক বছর পর সেই প্রত্যাশার বড় অংশই হতাশায় রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। আবাসনসংকট, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভাতা, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার এবং পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো নেই দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসন সংকট এখনও আছে। সেই সংকট দূর করার দাবি জানান তারা। তবুও তারা চান, প্রতি বছর রাকসু নির্বাচন হোক। প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করুক রাকসু।

শিক্ষার্থীদের মতে, রাকসু যা করেছে, সময় পেলে হয়তো আরেকটু করতে পারতো। রাকসু নির্বাচন আবার হলে ক্যাম্পাস আরও সুশৃঙ্খলভাবে থাকবে। এছাড়া নিয়মিত রাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গুণাবলি তৈরি হবে বলেও মনে করছেন তারা।

বছরজুড়েই নানা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে রাকসুর নেতৃত্ব। জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে তারা দাবি করেন, ইশতেহার অনুযায়ী শতভাগ কাজ করা হয়েছে এবং কিছু কাজ এখনো চলমান। দায়িত্ব পালনে নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তারা।

আরও পড়ুন:

রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘বিগত দিনে ১৬ বার রাকসু নির্বাচন হয়েছিলো। সেই ১৬ নির্বাচনের সবার ইশতেহার এবং আমাদের সময়ে অন্যান্য যত প্যানেল ছিলো, সবার চেয়ে আমাদের ইশতেহারের কাজ বেশি হয়েছে।’

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘এই চেয়ার-টেবিলও ছিলো না; কিছুই ছিলো না। এগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠনের কক্ষ ছিলো। সেখান থেকে এসে দাপ্তরিক একটা জায়গা দেয়া, পেপার্স প্রসেস করা, ডকুমেন্টেশন করা, আমাদের প্রত্যেক সম্পাদকের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিলো।’

এক বছরের অভিজ্ঞতার পর এখন সামনে নতুন নির্বাচনের গুঞ্জন। পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসন কতটা আন্তরিকতা দেখাবে?— সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

রাবি উপাচার্য ও রাকসু সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে হয়তো সামনে সময়ই বলে দেবে, বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আমরা কথা বলবো। আমরাও চাই যে রাকসু কার্যকরী থাক।’

রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমরা রাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তরিক এবং ইতিবাচক। কিন্তু এটা নির্ভর করছে, যারা স্টেকহোল্ডার, ছাত্র-ছাত্রী আছে এবং তাদের তৈরি পরিবেশের ওপর। পরিবেশ যদি ইতিবাচক হয়, রাকসু নির্বাচন করতে প্রশাস নের কোনো বাঁধা নেই।’

এক বছর আগে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো রাকসু নেতারা। তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এক বছরে?— প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের। তবে আগামীতে রাকসু নির্বাচন চলমান থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

এসএইচ