বরগুনায় ডেঙ্গুতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু; জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা

মৃত্যু শিক্ষার্থীর পরিবারের আহাজারি
এখন জনপদে
স্বাস্থ্য
1

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। মশার কামড়ে প্রাণ হারিয়েছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার গাবতলী এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. জান্নাতী। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সন্তানের এই অকালমৃত্যুতে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। একইসঙ্গে সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। শহরের গণ্ডি পেরিয়ে মশাবাহিত এই রোগের তীব্র প্রকোপ এখন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামগুলোতেও।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বরগুনায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং প্রাণ হারান ৫৮ জন। তবে এত বড় বিপর্যয়ের পরও মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন বরগুনাবাসী।

নিয়মিত মশা মারার ওষুধ না দেয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান না থাকা এবং চারপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:

রোগীর বাড়তি চাপে বরগুনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী আসায় বেড না পেয়ে রোগীদের বাধ্য হয়ে মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তীব্র জনবল ও ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘রোগী সামলাতে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন, তবে জনবল সংকট ও বেডের তীব্র ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’

কেবল বরগুনাই নয়, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিসহ পুরো বরিশাল বিভাগজুড়েই এখন ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে ডেঙ্গুর অন্যতম হটস্পট হয়ে উঠেছে পিরোজপুর, যেখানে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা হাসপাতালে আলাদা ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু করতে বাধ্য হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসন দ্রুত কার্যকর মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিলে পুরো বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এসএস