প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা; বড় অবদান মালয়েশিয়ার

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের ছবি
প্রবাস
0

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। পারিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে এ অর্থ। যার বড় অংশই আসছে মালয়েশিয়া থেকে। সম্প্রতি এ প্রবাহে দেখা গেছে ইতিবাচক ধারা।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে কর্মরত ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী। দিনরাত পরিশ্রম করে অর্জিত আয়ের প্রায় পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে পরিবারকে স্বাবলম্বী করে যাচ্ছেন তারা। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা লাভের অন্যতম মাধ্যম প্রবাসী আয়, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান মালয়েশিয়া প্রবাসীদেরও। বিগত কয়েক মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

মালয়েশিয়া থেকে গত বছরের জুনে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যার পরিমাণ ৪৪০৯ দশমিক ১৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গেছে চলতি বছরের মার্চে, ৪৩৬২ দশমিক ৭২ কোটি টাকা। এ প্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমবিএল মানি ট্যান্সফার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হায়দার মুর্তুজা বলেন, এখন যে রেটটা পাচ্ছে, ‘এক রিংগিতের বিনিময়ে যে টাকাটা পাচ্ছে শ্রমিকরা, এটা যেন কোনোভাবেই না কমে যায়। এ জিনিসটা ধরে রাখাটা জরুরি। এটা ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকও খুব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। যখনই বিভিন্ন ব্যাংক যারা ফরেন রেমিট্যান্স নেয়, তাদের ডলার উদ্বৃত্ত হয়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার দরে ডলারগুলো কিনে নিচ্ছে। বিধায় আমাদের জন্য এইটা সুবিধা হচ্ছে। এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে।’

আরও পড়ুন:

অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ ব্যবস্থাপক মঞ্জুর মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং সেবাটাও আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। আগে যেখানে টাকা পাঠাতে দুই-একদিন সময় লাগতো, আর এখন তো সেখানে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে হাতে হাতে টাকা পেয়ে যাচ্ছে।’

হুন্ডির তুলনায় বৈধ পথে টাকার বিনিময় হার বেশি পার্থক্য না থাকা, ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফেরা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে প্রবাসীরা এখন বেশি করে আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করছেন।

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের একজন বলেন, ‘বৈধ পথে পাঠাচ্ছি এইজন্য যে, এই টাকাটা দেশে যায়। দেশে যাওয়ার পর দেশের মানুষ, দেশ উন্নত হয়। মূল উদ্দেশ্য যাতে দেশে পাঠালে দেশটা উন্নত হয় বা সবদিক দিয়ে ভালো হয়, আমাদের জন্য ভালো হয়, সেইজন্য আমরা দেশে পাঠাচ্ছি বৈধ পথে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘বৈধ পথে পাঠালে পরে টাকাটা নিশ্চয়তা পাচ্ছি এবং বোনাসও ভালো পাচ্ছি এবং দ্রুত টাকা পৌঁছে যাচ্ছে।’

সরকারি বিভিন্ন সেবায় ভোগান্তি দূর করার পাশাপাশি প্রবাসীদের নানা সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান প্রবাসীদের। আর দেশটিতে কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থ পাচার বন্ধ রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স যায় গতবছরের মার্চ মাসে, ৪৪০৯ দশমিক ১৮ কোটি টাকা

এফএস