লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিলো ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা

মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি
প্রবাস
0

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা। বসন্তকালীন সমাবর্তনে আবেগঘন পরিবেশে এই সম্মাননা জানানো হয়। পরিবারের পক্ষে বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন মিয়ামির কনস‍্যুলেট প্রতিনিধি। এদিকে, অভিযুক্ত হিশামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন হিলসবোরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ।

এদিকে, আজ (শনিবার, ৯ মে) দুবাই হয়ে সকালে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। যে ডিগ্রির জন্য দেশ ছেড়ে দূর প্রবাসে পড়তে যাওয়া, এত ত্যাগ আর পরিশ্রম, জীবদ্দশায় তা দেখে যেতে পারলেন না দুই হতভাগ্য।

গতকাল (শুক্রবার, ৮ মে) দুই মেধাবী বাংলাদেশি গবেষক লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা। বসন্তকালীন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আবেগঘন এক পরিবেশে এ সম্মাননা জানানো হয়। মিয়ামির বাংলাদেশ কনস‍্যুলেটের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে এই বিশেষ সম্মাননা পদক ও সনদ গ্রহণ করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে নিহত শিক্ষার্থী দুজনের স্মরণে দুটি চেয়ার শূন্য রাখা হয়েছিল, যা উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের আবহ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের অসামান্য মেধা এবং গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এই মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে, এ জোড়া খুনের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। হিলসবোরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ অভিযুক্ত ঘাতক হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হওয়ায় তারা আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করবেন।

গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে লিমন ও বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক হিশাম আবুঘারবিয়াহ এ অপরাধ করার আগে অনলাইনে হত্যার পদ্ধতি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছিল বলেও প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে সে কারাগারে বন্দি আছে। আগামী ১৮ মে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার চার্জ গঠন বা ‘অ্যারেইনমেন্ট’ সম্পন্ন হবে।

নিহত জামিল ও নাহিদা বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেলের প্রতিনিধিরা এই বিচার প্রক্রিয়ায় নজরদারি করছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এফএস