২০২১ সালের আদম শুমারির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ। তবে সেই তুলনায় হজের কোটা বাড়ার পরিবর্তে উল্টো কমেছে।
তাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হজ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হলেও ব্রিটিশ মুসলমানদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মুসল্লি হজে অংশ নিলেও যুক্তরাজ্য থেকে গেল বছর ২৬ হাজার আবেদন করে সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ৫ হাজার। নুসুক প্ল্যাটফর্মের বুকিং ও কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিড়ম্বনার অভিযোগও রয়েছে। কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেকেই যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ হয়ে হজে যাচ্ছেন, দিন দিন বাড়ছে এই সংখ্যা।
এদিকে বাংলাদেশের কোটার সুযোগ নিয়ে অনেক বাংলাদেশি ট্রাভেল ব্যবসায়ী এখন যুক্তরাজ্যে এসে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্রিটেনের অনেক ট্রাভেল ব্যবসায়ী।
ইউকে লাব্বাইক ট্রাভেলসের পরিচালক হিফজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, নাম বলছি না, তারা রিপ্রেজেন্টিভ হয়ে এ দেশে এসে সেল করে। আসলে এটা তো আইনিভাবে সঠিক নয়।’
আরও পড়ুন:
তবে বাংলাদেশি ট্রাভেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বৈধভাবেই যুক্তরাজ্যে প্রচারণার কাজ করছেন, এতে বঞ্চিত হওয়া হজ যাত্রীরা সুযোগ পাচ্ছেন।
সিলেট লতিফ ট্রাভেলসের পরিচালক জহিরুল কবির চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী আছেন, তারা এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন, তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে কনফার্ম কোটায় হজে যেতে পারেন। সেই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা এটা ক্যাম্পেইন করি।’
হজযাত্রায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ভোগান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। ব্রিটেন থেকে হজ যাত্রায় পাসপোর্ট ব্যবহার নিয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবীরাও সতর্ক করেছেন।
ইমিগ্রেশন আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বলেন, ‘না বলে, আপনি আরেকটা বিদেশি পাসপোর্ট আপনার লাগেজে রাখলেন আর স্পট ভ্যারিফিকেশনে সেটা সৌদির পুলিশ আপনার কাছ থেকে পেলো, তখন কি তারা আপনার কোনো কথা শুনবে?’
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হজের কোটা না বাড়ালে এই ভোগান্তি আগামীতে আরও তীব্র হবে।





