যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য লড়াইয়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পেশ করলেন তার মেয়াদের দ্বিতীয় জাতীয় বাজেট। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যাতে রয়েছে নানা পরিকল্পনা। এর অংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার নতুন তিন বছর মেয়াদি অভিবাসন পরিকল্পনা। এতে স্থায়ী বাসিন্দা বা পিআর নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে বছরে ৩ লাখ ৮০ হাজার। অর্থাৎ ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯- এই তিন বছরে মোট ১১ লাখ ৪০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। তবে দক্ষতার ভিত্তিতে মিলবে এই সুযোগ।
রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট নাজমুল হাসান বলেন, কানাডা সরকারের নতুন ইমিগ্রেসন প্ল্যান অনুযায়ী ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার জনকে কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে। যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার জনকে ইকোনোমিক প্রোগ্রামে, ৮১ হাজার জনকে স্পাউস প্রোগ্রামে স্পন্সরশিপের মাধ্যমে, ৪৯ হাজার জনকে রিফিউজি ক্যাটাগরিতে আর ৫ হাজার জনকে হিউমিনিটি ব্যাকগ্রাউন্ডে।’
আরও পড়ুন:
কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা হতে বাংলাদেশিদের পেশাগত ও ভাষাগত দক্ষতা আরও বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। নতুন পরিকল্পনায় প্রতি বছর ২ লাখ ২০ হাজার নতুন অস্থায়ী কর্মী এবং ১ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে আলোচিত খবর, কানাডায় আগে থেকেই বসবাসরত সর্বোচ্চ দুই লাখ মানুষকে স্থায়ী বাসিন্দায় রূপান্তরের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক লাখ কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এবং আরেকটি মানবিক ধারায় সর্বোচ্চ এক লাখ মানুষের জন্য ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে সরকার। কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হবে। তবে এই উদ্যোগে সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় পিআর নিশ্চিত করা হয়নি।
আঞ্চলিক অভিবাসন কর্মসূচির ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রামে বছরে ৯৫ হাজার এবং আটলান্টিক ইমিগ্রেশন প্রোগ্রামে বছরে ৬ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
এরই মধ্যে সরকারি ঘোষণার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। যা থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।





