সকালের বাজার থেকে শুরু করে অনলাইন কেনাকাটা, বিদ্যুৎ বিল কিংবা মোবাইল রিচার্জ—প্রতিদিনের আর্থিক লেনদেনের বড় একটি অংশ এখন প্রযুক্তিনির্ভর। নগদ টাকা বহন কিংবা ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার ঝামেলা কমিয়ে মানুষের হাতে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এমনই এক গ্রাহক শুভ হালদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে নিচ্ছেন চাকরির প্রস্তুতি। লেনদেনে নিয়ে থাকেন ডাচ বাংলার নেক্সাস পের মতো ডিজিটাল সেবা।
শুভ হালদার বলেন, ‘নেক্সাস পে বা রকেট নেই। কারণ তাদের সিকিউরিটি অপশনটা আমার কাছে খুবই ভালো মনে হয়েছে এবং পেমেন্ট করার সময়েও অনেক স্মুথলি কাজ হয়েছে।’
লেনদেনের অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকরা সহজেই নিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক ব্যাংক কার্ড যুক্ত করা, টাকা স্থানান্তর, মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং মার্চেন্ট পেমেন্টের সুবিধা। হালে এই লেনদেন সহজ করেছে কিউআর কোড স্ক্যানিং।
ব্যবহারকারীদের একজন বলেন, ‘ব্যাংকে যেতে হয় না। শুধু একটা অ্যাকাউন্টের মধ্যে টাকা ঢুকানোর পরে, যেমন ডাচ-বাংলায় টাকা ঢুকাইলাম, ঢুকানোর পর আমি এখান থেকে সব জায়গায় ট্রান্সফার করতে পারি। ভাঙতি টাকা থাকার একটা পণ্য ক্রয় করলে সেক্ষেত্রে এই ডিজিটাল লেনদেনগুলো যদি বাড়ে, তাহলে ভাঙতি টাকার সমস্যা আশা করি থাকবে না।’
তবে, ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত পিন, ওটিপি ও পাসওয়ার্ড গোপন রাখা এবং অপরিচিত লিংক এড়িয়ে চলার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, ‘যারা আছে, যারা ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশনের ভিতরে যারা আছে, তারা কিন্তু আসলে অ্যাপভিত্তিক ট্রানজেকশনের দিকে এখন ঝুঁকে পড়েছে। অ্যাপস চালু করে তারা কিন্তু আসলে একটা সাড়া পেয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, অ্যাপভিত্তিক যে ট্রানজেকশন মিন্স ডিজিটাল ট্রানজেকশন, এই ডিজিটাল ট্রানজেকশনটা কিন্তু আসলে দরকার।’
ডিজিটাল সেবা গ্রহীতারা মনে করেন, ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে আরও বাড়বে প্রযুক্তির এই সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা।





