টানা কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে চেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চল। দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে করছেন শ্রমিকরা।
কারখানার ভেতরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য, সচল উৎপাদন কার্যক্রম। কেউ ব্যস্ত সুঁই-সুতোর কাজে, কেউ পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপে। শ্রমিকদের উপস্থিতিতে আবারও প্রাণ ফিরেছে শিল্পকারখানাগুলোতে। তবে কর্মস্থলে ফিরলেও শ্রমিকদের আশা, সরকার দ্রুত মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি ছাঁটাই ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে নেয়া হবে উদ্যোগ।
শ্রমিকরা আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে, বাড়বে উৎপাদন। তারা জানান, পরিবেশে আগের চেয়ে ভালো আছে এবং সবাই ভালো মন নিয়েই কাজ করছেন।
এদিকে, শ্রমিকদের কাজে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিল্প মালিক সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, মালিক-শ্রমিক আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণ হবে। একইসঙ্গে আন্দোলনের সুযোগে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন এবং শিল্পকারখানার ক্ষতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
আরও পড়ুন:
স্টাইলিস গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শিল্প যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, আমাদের গার্মেন্টস যদি চালাতে হয়, অর্থনীতিকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ভালো হতেই হবে। সম্পর্ক ভালো হলেই এ শিল্প আরও এগিয়ে যাবে। আমরা চাই না, এখানে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ুক আমাদের মধ্যে।’
ইন্টারলিংক ড্রেসেসের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. আজিজ নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, ‘সবার সঙ্গে কথা বলছি, তারা আমাদের বলেছে, স্যার, আপনারা চালান, তবে আমাদের দাবিটা মানতে বলেন। সে অনুযায়ী তাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে সবাই কাজে ফিরেছে।’
শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
ফোনে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভুইয়া বলেন, ‘২৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট এখানে ডেপ্লয় করা ছিলো। তারা এই শহরেই আছেন এখনো। কিন্তু তাদের আজ কোনো কাজ করার দরকার হয়নি। শ্রমিকরা কাজ করছেন স্বচ্ছন্দে। আমরা তাদের সেই পুরোনো সুন্দর কাজের পরিবেশ দেখতে পেয়েছি।’
গত কয়েকদিনের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে ব্যাহত হয় শিল্পকারখানার উৎপাদন। পুলিশের তথ্যমতে, গাজীপুরের প্রায় সব পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচলও।





