‘জনআস্থা হারাচ্ছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো’; সামাজিক মাধ্যমে কড়াকড়ি বাড়ছে—গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

মেটা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
বিদেশে এখন
তথ্য-প্রযুক্তি
0

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ওপর জনআস্থা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং এর ফলে কিশোর-কিশোরীদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বৈশ্বিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মেটার সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ও হুইসেলব্লোয়ার আর্তুরো বেজার জানিয়েছেন, বিশ্বের অধিকাংশ মা-বাবাই এখন তাদের সন্তানদের ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গত বছর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর এখন অনেক দেশই সেই পথে হাঁটছে। এই মাসেই ব্রিটেন ঘোষণা করেছে যে, ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে তারা মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক, গুগলের ইউটিউব, ইলন মাস্কের এক্স, টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেবে।

এরইমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এছাড়া অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স ও নরওয়েও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে। অন্যদিকে ব্রাজিল স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য কেবল মা-বাবার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নিয়ম করেছে।

মেটার সাবেক প্রকৌশলী বেজার বলেন, ‘প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো বারবার বিশ্বকে দেখাচ্ছে কেন তাদের বিশ্বাস করা যায় না।’ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত মেটাকে দায়ী করে জানিয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি জেনেশুনে নেশাদায়ক পণ্য তৈরি করেছে এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। যদিও মেটা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে এবং বলেছে যে, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল।

প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ব্যাপক লবিং শুরু করেছে। গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে লবিংয়ের পেছনে মেটা, গুগল ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১৫ কোটি ইউরো ব্যয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ‘কিডস অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট’ (কোসা) রুখতে গত চার বছরে ২৬ কোটি ডলার ব্যয় করেছে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ব্রিটেনের মতো দেশগুলোর এই বিধিনিষেধকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) আইনি বাধার কারণে ফেডারেল পর্যায়ে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া কঠিন।

তা সত্ত্বেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে একটি ‘টিপিং পয়েন্ট’ বা সন্ধিক্ষণ তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

এএম