হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার মন্তব্য ‘রসিকতা’ ছিল, দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের

তেহরান ব্যস্ত সড়কে ইমাম খামেনি ব্যানার
বিদেশে এখন
0

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন বলে যে মন্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করেছেন, তা ছিল শুধু ‘রসিকতা।’ গতকাল (শুক্রবার, ১৪ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের’ প্রতিবেদক ব্রায়ান শোয়ার্জ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেননি।

শোয়ার্জ লিখেছেন, ‘যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেননি। আজ নিউইয়র্কে তার ভাষণকালে তিনি মজা করেছিলেন।’

নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। মৃদু হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘ইরানকে হারানোর কাজ শেষ করার পর—যেটি এখন খুব বাজেভাবে পরাজিত হচ্ছে—আমি খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব। এটি সত্যি।’

ওই ভাষণে উপস্থিত থাকা শোয়ার্জ জানিয়েছেন, মন্তব্য করার পর ট্রাম্প মৃদু হেসেছিলেন। তবে পরে তিনি এটি সত্যি বলেই জোর দিয়ে বলেন। ট্রাম্প এটিও দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সামুদ্রিক চলাচল ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবরোধ রয়েছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজ পার হতে পারবে না।’

ওয়াশিংটনের দাবি নিয়ে ইরানের দ্বিমত
মার্কিন এই দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এই জলপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে।

সিএনএনের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, পণ্য ও শিপিং বিশ্লেষক সংস্থা ‘কেপলারের’ তথ্যে দেখা গেছে, ১২ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর ১৬৬ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩৭১টি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এটি যুদ্ধের আগের প্রণালি চলাচলের প্রায় ২০ শতাংশ।

এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ১৭ জুন আলোচনা শুরুর একটি সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করে দুই দেশ। তবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ কয়েকটি বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সেই আলোচনা পরে থমকে যায়।

গত ৮ থেকে ২৪ জুলাই দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালায়। ওয়াশিংটন ইরানের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানায় তেহরান। হরমুজ প্রণালি উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ।

এএম