ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্প এলাকা নিপ্রোপেত্রভস্ক দখলের পর এবার দোনেৎস্কের আরও একটি বসতি দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দুই দেশের শান্তি আলোচনা নিয়ে পরিকল্পনা চলার মধ্যেই ইউক্রেনের একের পর এক অঞ্চল দখল করে যাচ্ছে মস্কো।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দোনেৎস্ক অঞ্চলের পারভয়ে মায়া সম্প্রদায়ের পুরোটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। গেল একদিনে সুমি, খারকিভ, দোনেৎস্ক, জাপোরোঝিয়াসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে একযোগে হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রায় দেড়শ'টি এলাকায় সংঘাত চলে দু’পক্ষের মধ্যে। এ সময় বিমান, ড্রোন ও কামান দিয়ে কিয়েভের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী আক্রমণ চালায়। যদিও, ইউক্রেনের দাবি, গেল একদিনে তারা রাশিয়ার ১৬২টি ড্রোন ভূপাতিত ও বেশ কয়েকটি স্মার্ট বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে।
এদিকে, রাশিয়ার রাতভর হামলায় কিয়েভের বাসিন্দারা আশ্রয় নেয় শহরের মেট্রো স্টেশনে। মাটির নিচে মেট্রোর সিঁড়িতে রাত কেটেছে বাসিন্দাদের। রুশ হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৩ শিশুসহ বেশ কয়েকজন। এ সময় আহত হয়েছে ২০ জনের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও স্থাপনা।
ইউক্রেনের ছয়টি অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোতে বড় আকারের আক্রমণ চালায় মস্কো। সুমি অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, একরাতের হামলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে এক লাখের বেশি বাসিন্দা। ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, শীতের আগে কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে চায় রাশিয়া।
এমন অবস্থায়, চলতি সপ্তাহেই নিউইয়র্কে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে বলে জানান জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। উত্তর জার্মানিতে নতুন গোলাবারুদ কারখানা উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন তিনি।
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে জার্মানি অবশ্যই প্রস্তুত। জার্মানির সক্ষমতা ও ইচ্ছা অনুযায়ী সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে এগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে এখনই বলতে রাজি না। আরেকটি বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমর্থক জার্মানি। সামনে ইউক্রেনের প্রতি ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠবে।’
যদিও ক্রেমলিন বলছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিষয়ে ইউরোপের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। তারা রাশিয়ার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে বলেও অভিযোগ করেন ক্রেমলিন মুখপাত্র।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে ইউরোপের। বিভিন্ন সময় এ বিষয়টি নিয়ে মস্কো কথা বলেছে। তারা ন্যাটোর মাধ্যমে সব জায়গায় নিরাপত্তা বাড়াতে চায়। মূলত এ ন্যাটোর জন্য ইউক্রেন সংঘাত শুরু হয়েছে।’
এদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন মহড়া শুরু করেছে চীন ও রাশিয়া। যৌথ এই মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে নৌ সহযোগিতা জোরদার করা। এছাড়া, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায়ে একসঙ্গে কাজ করা।