১৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে বসে বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির পতন দেখেছেন ইরানি রাজতন্ত্রদের সবশেষ উত্তরসূরি রেজা পাহলভি। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি তার। তবে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া চলমান সহিংস আন্দোলনের জেরে নতুন করে লাইমলাইটে এ নির্বাসিত যুবরাজ। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেন রেজা পাহলভি। এছাড়া শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক্স বার্তায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ এনে দ্রুত দেশটিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান নির্বাসিত যুবরাজ।
চলমান আন্দোলনে সম্ভাবনা বাড়ছে রেজা পাহলভির দেশে ফেরার। এছাড়া বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোতে আগ্রহ বাড়ছে তাকে নিয়ে। মূলত ১৯৬০ সালে তেহরানে জন্ম নেন রেজা পাহলভি। রাজপরিবার সদস্য হিসেবে শৈশব বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে কাটে যুবরাজের। মাত্র নয় বছর বয়সে ক্রাউন যুবরাজের খ্যাতি পান তিনি। ১৭ বছর বয়সে যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পাড়ি জমান তিনি। এরপর থেকে সেখানে স্ত্রী-সন্তানসহ বাস করছেন রেজা পাহলভি। ছিলেন না বাবার মৃত্যুর সময়ও ।
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন সময়ে ইরানের সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন এবং নারীদের অধিকার নিয়ে নির্বাসিত যুবরাজ কথা বললেও, খামেনির জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি তিনি। তবে নানা কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলেন রেজা পাহলভি।
২০২৩ সালে ইসরাইল সফরের মধ্য দিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন রেজা পাহলভি। সেখানে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এছাড়া গেলবছরে তেহরানে ইসরাইলি হামলার সময় বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রেজা পাহলভি। ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলাকে সমর্থন করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে যুবরাজ জানান, শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করে এমন যেকোনো হামলাকে স্বাগত জানায় তেহরানবাসী।
ইরানে ফের রাজতন্ত্র ফিরবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরানের জনগণ। তবে যুবরাজকে অতিমাত্রায় বিদেশি মদদপুষ্ট বলে মনে করেন সমালোচকরা।




