ডেনমার্কের হাতে সুরক্ষিত নয় গ্রিনল্যান্ড: ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

হোয়াইট হাউজের বৈঠকের পরও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পরিকল্পনা পরিবর্তন ঘটেনি। মৌলিক বিষয়ে পার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানান ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিরা। ট্রাম্পের অভিযোগ, ডেনমার্কের হাতে সুরক্ষিত নয় গ্রিনল্যান্ড। এমন অবস্থায় দ্বীপটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক। গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় কমিশন। এদিকে, ট্রাম্পকে সাম্রাজ্যবাদী আখ্যা দিয়ে ডেনমার্কে বিক্ষোভ করেছে একদল মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ড তাদের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে ন্যাটো আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। অন্য কেউ কর্তৃত্ব ফলাতে পারবে না। এদিকে, ডেনমার্কের অভিযোগ, রাশিয়া ও চীনের নিয়ন্ত্রণের দোহাই দিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের পাঁয়তারা করছেন ট্রাম্প।

চরম উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউজে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে খোলামেলা আলোচনা করেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। রুদ্ধদ্বার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আলোচনার লক্ষ্য ছিল গ্রিনল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের আগ্রাসী পরিকল্পনার পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান, ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি মূল ছিলো। ডেনমার্কের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো অভিন্ন। তবে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আমরা একমত নই।’

আর কোনোভাবেই ভূখণ্ডটি দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি জানান গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার মানে এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করবে এবং গ্রিনল্যান্ডবাসী মার্কিন তত্ত্বাবধানে থাকবে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে ট্রাম্পের দাবি, দ্বীপটি রক্ষায় ডেনমার্কের ওপর নির্ভর করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, কোনো একটি সমাধান বের করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, তাহলে ডেনমার্ক কিছুই করতে পারবে না। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যা করতে পারবে তা ডেনমার্ক পারবে না। প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সবকিছু আছে। ডেনমার্কের ওপর ভরসা নেই।’

এমন অবস্থায় মিত্রদের সহযোগিতায় গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির সুরক্ষায় এরিমধ্যে সুইডেনও সামরিক কর্মকর্তাদের দল পাঠিয়েছে গ্রিনল্যান্ডে।

গ্রিনল্যান্ডে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে এসেছে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যেকোনো প্রয়োজনে ইইউ পাশে আছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লাইয়েন।

ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লাইয়েন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। গ্রিনল্যান্ডের দায়িত্ব শুধু ডেনমার্কের ওপরই নির্ভর করে। ভূখণ্ডটির বিষয়ে কেবল ডেনমার্কের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডবাসীদের চাহিদা পূরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাশে আছে।’

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা হাতে আন্দোলন করে একদল বিক্ষোভকারী। এ সময় ট্রাম্পকে বোকা এবং তার প্রশাসনকে সাম্রাজ্যবাদী আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায় তারা।

অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসীর মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারাও গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরুদ্ধে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে মাত্র ১৭ শতাংশ এবং বিপক্ষে আছে ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।

এফএস