সৌদি আরবে ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে: কবে ঈদুল ফিতর?

ঈদ
বিদেশে এখন
27

সৌদি আরবে আজ (বুধবার, ১৮ মার্চ) পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ (Moon of Shawwal) দেখা যায়নি। ফলে আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর (Eid-ul-Fitr) উদযাপিত হবে। আজ রাতে সৌদি আরবের রাজকীয় সুপ্রিম কোর্ট (Saudi Royal Supreme Court) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে। গালফ নিউজের (Gulf News) প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুুন:

একনজরে সৌদি আরবের ঈদুল ফিতর ২০২৬-এর আপডেট

বিষয় (Topic) বিস্তারিত তথ্য (Detailed Information)
চাঁদ দেখার তারিখ ১৮ মার্চ ২০২৬, বুধবার (২৯ রমজান)।
চাঁদ দেখার ফলাফল চাঁদ দেখা যায়নি (Moon Not Sighted)
রমজানের সংখ্যা এ বছর সৌদিতে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে।
ঈদুল ফিতরের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার (১লা শাওয়াল)।
ঘোষণা কর্তৃপক্ষ সৌদি রাজকীয় সুপ্রিম কোর্ট (Saudi Royal Supreme Court)।
চাঁদ না দেখার কারণ বিরূপ আবহাওয়া, মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে দেখা যায়নি।
ঈদের ছুটি ১৮ মার্চ রাত থেকে শুরু (টানা ৪ দিন)।

চাঁদ না দেখার কারণ ও সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি (Supreme Court Notice)

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নত প্রযুক্তির টেলিস্কোপ (Advanced telescope) ও বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে চাঁদ দেখার প্রচেষ্টা চালানো হলেও বিরূপ আবহাওয়া—বিশেষ করে মেঘলা আকাশ (Cloudy sky) ও বৃষ্টির কারণে কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব হয়নি।

ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রমজান মাসের ৩০তম দিন (30th day of Ramadan) পূর্ণ হবে এবং শুক্রবার ১লা শাওয়াল ঈদুল ফিতর পালন করবে সৌদি আরব। দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি (Moon Sighting Committee) নির্ধারিত বৈঠক শেষে জানিয়েছে, চন্দ্র পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নতুন মাস শুরুর ইসলামী বিধান ও ঐতিহ্য মেনেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

চাঁদ দেখা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস (Astronomical Forecast)

আজকের চাঁদ দেখা নিয়ে বাহরাইন, কুয়েত, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, লেবানন, সুদান ও ইরাকের কিছু অঞ্চলেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে গালফ নিউজের (Gulf News) প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ বিশ্বের কোথাও শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব (Astronomical calculation) বলছে, আজ চাঁদ সূর্যাস্তের আগেই অস্ত যাবে, যার ফলে খালি চোখে (Naked eye) চাঁদ দেখা অসম্ভব হবে।

ঈদের ছুটি ও শ্রম আইন (Eid Holidays and Labor Law)

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (Ministry of Human Resources and Social Development) ঘোষণা করেছিল যে, বেসরকারি এবং অলাভজনক খাতের কর্মীদের জন্য ঈদের ছুটি (Eid holidays) আজ বুধবার (১৮ মার্চ) রাত থেকেই শুরু হবে। সৌদি শ্রম আইনের (Saudi Labor Law) বিধান অনুযায়ী, এই ছুটি টানা চার দিন পর্যন্ত চলবে।

আরও পড়ুন:

অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি (Situation in Other Countries)

অন্যদিকে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া, মিসর ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার হবে ২৯ রমজান। এসব দেশে চাঁদ দেখা (Moon sighting) হবে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতে আজ চাঁদ দেখা একেবারেই অসম্ভব হবে এবং মধ্যাঞ্চলে তা অত্যন্ত কঠিন। তাই ঈদের তারিখ নির্ধারণে প্রচলিত চাঁদ দেখা পদ্ধতি (Traditional moon sighting) এবং আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান (Modern astronomy)—উভয়টির সমন্বয় এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সৌদি আরবে যেভাবে চাঁদ দেখা হয়: সুপ্রিম কোর্ট ও আধুনিক মানমন্দিরের সমন্বিত প্রক্রিয়া

সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা (Moon of Shawwal sighting) এবং ঈদের তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল এবং কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। দেশটিতে চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত কেবল ধর্মীয় বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং এতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও প্রশাসনিক স্তরের সমন্বয় থাকে।

১. রাজকীয় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা (Role of Royal Supreme Court)

চাঁদ দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সর্বময় ক্ষমতা সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের (Saudi Supreme Court) হাতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাঁদ দেখার সাক্ষ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) এই ঘোষণা দেন। আজ এই সুপ্রিম কোর্টই ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

২. চাঁদ দেখা কমিটি ও বিশেষজ্ঞ দল (Moon Sighting Committee)

দেশজুড়ে প্রধান ১০টি অঞ্চলে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বিশেষ কমিটি থাকে। এই কমিটিতে সাধারণত ধর্মীয় আলেম ও বিচারক (Religious scholars and judges), দক্ষ জ্যোতির্বিজ্ঞানী (Astronomers) এবং সরকারি প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন। তারা শরীয়াহ মোতাবেক সাক্ষ্য গ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাঁদের অবস্থান (Position of the moon) নির্ণয় করেন।

৩. আধুনিক মানমন্দির ও প্রযুক্তি (Observatories and Technology)

সৌদিতে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপ (High-powered telescopes) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশি। প্রধানত দুটি মানমন্দির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:

সুদাইর মানমন্দির (Sudair Observatory): এটি সৌদির সবচেয়ে বিখ্যাত মানমন্দির। এখানকার প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ আল-খুদাইরি (Abdullah Al-Khudairi) বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

তুমাইর মানমন্দির (Tumair Observatory): এখান থেকেও প্রতি বছর নিখুঁতভাবে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া মক্কা, মদিনা ও রিয়াদেও বিশেষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।

৪. সাধারণ নাগরিকদের সাক্ষ্য (Testimony of General Citizens)

সুপ্রিম কোর্ট প্রতি বছর ২৯ রমজানে সাধারণ নাগরিকদেরও চাঁদ দেখার আহ্বান জানায়। কোনো নাগরিক খালি চোখে (Naked eye) চাঁদ দেখতে পেলে তাকে নিকটস্থ আদালতে গিয়ে শপথ করে সাক্ষ্য দিতে হয়। সেই সাক্ষ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যের সাথে মিললে তবেই তা গ্রহণ করা হয়।

চাঁদ দেখার ধাপগুলো (Steps of Moon Sighting)

সূর্যাস্তের আগে (Before Sunset): জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গাণিতিকভাবে নির্ণয় করেন চাঁদ দিগন্তের কত ডিগ্রি ওপরে থাকবে এবং কতক্ষণ স্থায়ী হবে।

মাগরিবের পর (After Maghrib): বিভিন্ন মানমন্দির (Observatories) থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষ্যগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়।

যাচাই-বাছাই ও ঘোষণা (Verification and Announcement): সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা প্রাপ্ত সাক্ষ্যগুলো বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে দেখেন। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পর রাজকীয় ফরমান (Royal Decree) জারি করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে ঈদের ঘোষণা দেওয়া হয়।

চাঁদ দেখার সূচি

দেশসমূহ (Countries) চাঁদ দেখার দিন (Observation Day) সম্ভাবনা (Possibility)
সৌদি আরব, আমিরাত, কাতার ১৮ মার্চ (বুধবার) অসম্ভব (চাঁদ আগে অস্ত যাবে)।
তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বেশি (রোজার ৩০টি পূর্ণ হতে পারে)।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারণ।

সৌদি আরবে ঈদের চাঁদ ২০২৬ | সৌদি আরবে ঈদের চাঁদ দেখা গেছে ২০২৬


এসআর