আবুধাবিতে নেতানিয়াহুর গোপন সফর, দাবি নাকচ আরব আমিরাতের

বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ
বিদেশে এখন
0

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই আবুধাবিতে গোপন সফর করেছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনই তথ্য দিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তবে তাদের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তেল আবিবের সঙ্গে এই যোগসাজশ ক্ষমার অযোগ্য বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বুধবার ২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের হয় নি। হয়েছে সৌদি আরবের সঙ্গেও। মূলত রিয়াদ কেবল তেহরানেই গোপন হামলা নয় বরং ইরাকেও বোমা হামলা চালিয়েছিল। সৌদি আরবের এই হামলা এবং পাল্টা হামলাগুলো ছিল বৃহত্তর যুদ্ধের ভেতর আরেক যুদ্ধ। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তারা বলছে, সৌদি আরবের এসব হামলা চালানো হয় ইরাকের অভ্যন্তরে ইরান-সমর্থিত প্রভাবশালী শিয়া মিলিশিয়াদের ওপর। হামলা চালিয়েছে কুয়েতও।

শুধু এই প্রতিবেদনই নয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলছে, ইরান যুদ্ধের মধ্যে আবুধাবিতে গোপন সফর করেছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তাদের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেতানিয়াহু এই সফর করেছেন। তেল আবিবের দাবি এই সফরে আমিরাত-ইসরাইল সম্পর্কের ঐতিহাসিক অগ্রগতি হয়েছে। যদিও ইসরাইলের এমন দাবিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, ইসরাইলের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি বা বৈঠক হয়নি।

তবে তেল আবিবের সঙ্গে আঁতাত করা দেশগুলোকে কঠিন জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এটিকে ক্ষমার অযোগ্য উল্লেখ করে জবাবদিহিতার আওতার আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। যদিও ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার কাছে নেতানিয়াহু সফরের তথ্য আগেই ছিল বলে দাবি আরাঘচির।

এরইমধ্যে পারস্য উপসাগরে ইরানের আধিপত্য কমাতে চীন যাতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে রাজি করাতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। স্থানীয় সময় বুধবার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন,পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রস্তুতি হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার তৈরি করছিল তেহরান। সাক্ষাৎকারটি এমন সময়ে দেয়া হয় যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফর করছেন।

আরও পড়ুন:

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যদি হরমুজ প্রণালির এই সংকটের কারণে বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, তাহলে তারা চীনা পণ্য কেনা কমিয়ে দেবে। তখন চীনের রপ্তানিও মারাত্মকভাবে কমে যাবে। সুতরাং তাদের স্বার্থেই এর সমাধান করতে হবে। আমরা আশা করি, পারস্য উপসাগরে ইরান এখন যা করছে এবং করার চেষ্টা করছে, তা থেকে সরে আসতে তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে রাজি করাতে পারব।

এদিকে, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে ট্রাম্প নাকচ করে দিলেও তেহরানের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সেই সাথে ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না -মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মতের উপর জোর দেন ভ্যান্স।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আমরা অগ্রগতি করছি। মূল প্রশ্ন হলো, আমরা কি প্রেসিডেন্টের অলঙ্ঘনীয় শর্তটি পূরণ করার মতো যথেষ্ট অগ্রগতি করছি? আর সেই শর্তটি খুবই সহজ। তাঁকে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে যে, আমরা এমন কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, যার ফলে ইরানের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এলপিজি বহনকারী ভারতগামী দুটি, চীন ও জাপানের বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ।

এদিকে লেবাননে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। ইসরাইলি হামলায় বুধবার অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। এ নিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯৬ জনে।

ইএ