ইসরাইলের আরাদ ও দিমোনায় ইরানি হামলায় আহত অন্তত ১৮০

দক্ষিণ ইসরাইলের আরাদ শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানটি
বিদেশে এখন
2

ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা ও আরাদে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) রাতে দিমোনা—যেখানে ইসরাইলের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে এবং আরাদ শহরে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, আরাদে অন্তত ১১৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

ইসরাইল সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর এসব হামলা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা ও মধ্যপ্রাচ্যের দ্য ন্যাশনাল প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আজ (রোববার, ২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ ইসরাইলে সামরিক স্থাপনা ও নিরাপত্তাকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছিল, তবে হামলাগুলো প্রতিহত করতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হবে এবং আমরা এ থেকে শিক্ষা নেব।’

ইসরাইলের গোপনীয় পারমাণবিক স্থাপনাটি দিমোনা শহরের প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। দিমোনা ও আরাদ—দুই শহরই দেশটির কয়েকটি সামরিক স্থাপনার কাছে, যার মধ্যে অন্যতম বড় ঘাঁটি নেভাতিম বিমানঘাঁটি।

আরাদে হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের লড়াইয়ে এটি খুবই কঠিন একটি সন্ধ্যা ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ফ্রন্টে আমাদের শত্রুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

ইসরাইলি কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ইরানি বাহিনী প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:

ইসরাইলের সামরিক প্রধান এয়াল জামির বলেন, ‘ইরান ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির দিকে ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।‘ দেশটির সামরিক বাহিনীর বলছে, ‘এই সংঘাতে ইরান প্রথমবার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর এটিই মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের প্রথম বিস্তার।’

জামির এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়নি। এদের পাল্লায় ইউরোপের রাজধানীগুলো রয়েছে—বার্লিন, প্যারিস ও রোম সরাসরি হুমকির মধ্যে।’

হামলার আগে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) সকালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এতে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি এবং আশপাশে বসবাসকারীরা ঝুঁকিতে নেই। ইসরাইল বলেছে, এ ধরনের কোনো হামলার বিষয়ে তারা অবগত নয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বলেছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

পরে ইরানি গণমাধ্যম আরও জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বুশেহরের একটি যাত্রী টার্মিনাল এবং খার্গ দ্বীপে থাকা একটি খালি যাত্রীবাহী জাহাজেও হামলা হয়েছে। ইরানের প্রায় সব তেল রপ্তানির লোডিং হয় খার্গ দ্বীপে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানোর বা স্থলসেনা পাঠিয়ে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এটি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এএম