যুদ্ধ-আগুন-বিপত্তি পেরিয়ে ঘরে ফিরলো মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক রণতরী

উএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী বন্দরে ভিড়েছে, ফলে এটি ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে সরে গেছে। ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের মোতায়েনের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়েছে এবং তা এখন নয় মাস অতিক্রম করেছে। সমুদ্রে থাকার সময় জাহাজটির ক্রুরা পয়োনিষ্কাশন–সংক্রান্ত সমস্যা ও অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হন। বিসনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (সোমবার, ২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জানায়, তাদের নতুনতম ও সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরীটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি বন্দরে ভিড়েছে। এর ফলে এটি ইরানের সঙ্গে লড়াই থেকে সরে গেছে।

এ শ্রেণির প্রথম জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বর্তমানে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ঘাঁটি নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি সুদা বেতে রয়েছে। লোহিত সাগরে অভিযান পরিচালনার পর সেখানে জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করা হবে।

ইউরোপে নৌবাহিনীর কার্যক্রম তদারকি করা যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ নৌবহর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিমানবাহী রণতরীটি এখনো পূর্ণমাত্রায় মিশন পরিচালনায় সক্ষম। বন্দরে এই অবস্থান জাহাজটির কার্যকর মূল্যায়ন, মেরামত ও পুনরায় রসদ সরবরাহের সুযোগ দেবে। জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের বিদেশি মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লোহিত সাগর ছেড়ে সুয়েজ খাল হয়ে উত্তরে যাওয়ার পর ফোর্ডকে সুদা বের কাছাকাছি দেখা যায়। তবে স্ট্রাইক গ্রুপের অন্য যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান স্পষ্ট নয়।

বিমানবাহী রণতরীটি অল্প সময়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে সহায়তা করছিল। তবে সুদা বেতে এর অবস্থান জাহাজটিকে অন্তত সাময়িকভাবে এই লড়াই থেকে সরিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ মোতায়েনের সময় একাধিক ঘটনার পর এটি ঘটলো।

আরও পড়ুন:

ফোর্ড ২০২৫ সালের ২৪ জুন ভার্জিনিয়ার নিজ ঘাঁটি থেকে যাত্রা করে। কমিশনিংয়ের পর এটি ছিল এর মাত্র দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল মোতায়েন। এই মোতায়েনের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়েছে এবং তা এখন নয় মাস ছাড়িয়েছে। সাধারণত বিমানবাহী রণতরীগুলো এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকে না।

ফোর্ড শুরুতে ইউরোপে গিয়েছিল। তবে নভেম্বর মাসে ভেনেজুয়েলা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জাহাজটিকে আবার ক্যারিবীয় সাগরে পাঠানো হয়। সেখানে এটি কয়েক সপ্তাহ অবস্থান করে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে জাহাজটিকে আবার মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর কয়েক দিন পর মার্চের শুরুতে এটি ওই অঞ্চলে প্রবেশ করে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে ফোর্ডের অবস্থান দীর্ঘ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ১২ মার্চ জানায়, জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি অংশে আগুন লেগে দুই নাবিক আহত হন। যদিও এতে চালনা ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি এবং জাহাজটি ‘পূর্ণমাত্রায় সচল’ ছিল।

পরে ইউএসএনআই নিউজ জানায়, ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণজনিত সমস্যায় শত শত নাবিককে চিকিৎসা দিতে হয়। এ ছাড়া আগুনে জাহাজটির আবাসন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে নৌবাহিনীকে পরবর্তী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জন এফ. কেনেডি থেকে ম্যাট্রেস আনতে হয়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য অন্তর্ভুক্ত পঞ্চম নৌবহরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ফোর্ডে উড়ান কার্যক্রম চলছিল।

ফোর্ডের জাহাজে অবস্থানরত ৪ হাজারের বেশি সদস্যের ক্রু দীর্ঘ এই মোতায়েনের সময় পয়োনিষ্কাশন–সংক্রান্ত সমস্যারও মুখোমুখি হয়েছে। বিমানবাহী রণতরীটি কমিশন হওয়ার কয়েক বছর পর ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসও এই সমস্যার কথা তুলেছিল।

এএম