আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহে এসে অঞ্চলটিতে মার্কিন উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এরইমধ্যে বিমান হামলায় ইরানের ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
বর্তমানে অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বিভিন্ন স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মেরিন বাহিনী ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তিনটি প্রধান বাহিনী মোতায়েন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ, বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী। এসব বাহিনীতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার সেনা যুক্ত হয়েছে।
ত্রিপোলি গ্রুপে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সদস্য রয়েছে, যারা আকাশ ও সমুদ্রপথে দ্রুত অভিযান চালাতে সক্ষম। অন্যদিকে, বক্সার গ্রুপেও প্রায় একই সংখ্যক মেরিন ও নৌসদস্য রয়েছে। আর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো স্থানে স্বল্প সময়ের মধ্যে মোতায়েনের সক্ষমতা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাহিনীগুলোর কাঠামো ও সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নয়। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক রুবেন স্টুয়ার্ট বলেছেন, বর্তমান বাহিনী ‘দ্রুত ও স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ পরিচালনার উপযোগী।
আরও পড়ুন:
সম্ভাব্য অভিযানের মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করা, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় সীমিত হামলা, কিংবা খারগ দ্বীপে অভিযান। তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা দখল বা নিরাপদ করার মতো বড় ধরনের স্থল অভিযান বর্তমান বাহিনী দিয়ে সম্ভব নয় বলেও মত দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বে প্রতিদিন বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে রাখায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিরাপদ করতে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সার্বিকভাবে আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক প্রস্তুতি সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং চাপ সৃষ্টি, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে সীমিত আঘাত হানার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে এই সমাবেশ বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।




