ইরানি রাষ্ট্রীয় টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ‘পশ্চিমা গণমাধ্যমে যেভাবে প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ বলে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাঘচি বলেন, ‘অনেক জাহাজমালিক বা যেসব দেশ এসব জাহাজের মালিক, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পারাপার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ মনে করি, অথবা অন্য কারণে যাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদে দেখেছেন—চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারত। কয়েক রাত আগে তাদের দুটি জাহাজ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি আমার মনে হয় বাংলাদেশও। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে ও সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতেও, যুদ্ধের পরও এটি অব্যাহত থাকবে।’
আরও পড়ুন:
তবে আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং বর্তমান সংকটে ভূমিকা রাখা কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। অঞ্চলটি যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান প্রণালিতে প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বিশ্বে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
শিপিং বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল ৯৫ শতাংশ কমেছে। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এ পথে চলাচল করে। তবে এ সময়ে মোট ১৫৫টি জাহাজ পার হয়েছে, যার মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।





