রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন আঞ্চলিক শক্তির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে পৌঁছে এসব আলোচনায় অংশ নেন। এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে স্থল হামলা না চালানোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে লড়াই চলতে থাকায় বৈশ্বিক তেলের দামও বেড়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, নৌ চলাচল ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগও এসব দেশের ছিল। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল সামুদ্রিক পথে পণ্য পরিবহনের প্রবাহ স্থিতিশীল করা।
আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। তবে এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা শুরুর পর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কার্যত ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের মতো পাকিস্তানও ইরানের সীমান্তবর্তী দেশ। তেহরান ও ওয়াশিংটন—দুই পক্ষের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এই সংঘাতে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যানেল হিসেবে উঠে এসেছে; আঙ্কারা ও কায়রোও ভূমিকা রেখেছে।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ (রোববার, ২৯ মার্চ) বৈঠকের আগে মিসরের প্রস্তাবসহ কিছু প্রস্তাব হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে সুয়েজ খালের মতো ফি কাঠামোর কথাও ছিল।
পাকিস্তানের আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যবস্থাপনায় একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের কথা ভাবছে এবং এতে অংশ নিতে পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছে। সূত্রগুলো বলছে, এই ব্যবস্থাপনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম পাকিস্তানি সূত্র আরও জানান, দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
তুরস্কের এক কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, আঙ্কারার অগ্রাধিকার যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে আস্থা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।’
রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলাদা করে তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সেখানে সংলাপ ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর জোর দেয়া হয়।
এছাড়া ইসহাক দার এক্সে দেয়া পোস্টে জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও ২০টি পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে ইরান সম্মত হয়েছে।





